সামান্য দর-দামেই বিক্রি

রাজশাহী রাজশাহী বিভাগ

রাত পোহালেই ঈদ-উল আযহা। কোরবানির পশু কেনার আজই শেষ দিন। তাই বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে মানুষের ঢল নেমেছে রাজশাহীর পশু হাটগুলোয়। পশু কেনা-বেচা নিয়ে এখন রাজ্যের ব্যস্ততা ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে। যেন কারোরই ফুরসত নেই।

শেষ মুহূর্তের এ কেনা-বেচায় রাজশাহীর সিটি ও কাটাখালি হাটে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই।

শহর ঘেঁষা হওয়ায় রাজশাহীর এ দুই হাটেই ক্রেতাদের ভিড় বেশি। সকাল থেকেই কেনাকাটায় সরগরম হয়ে উঠেছে পশুর হাটগুলো। শেষদিনে গরু আর ছাগলের আমদানিও হয়েছে প্রচুর।

পিছিয়ে নেই মহানগরীর উপকণ্ঠে থাকা মাসকাটা দীঘি, গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি, পুঠিয়ার বানেশ্বর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনাইচণ্ডি ও নওগাঁর চৌবাড়িয়া হাট। জমে উঠেছে নওহাটার একমাত্র ছাগলের হাটও।

যানজটে পথে দীর্ঘসময় ব্যয় হওয়ায় এ মুর্হূতে হাটগুলোতে তেমন দেখা মেলেনি বাইরের ক্রেতাদের। আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে স্থানীয় ক্রেতা। এবার ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দেশি ছোট এবং মাঝারি আকৃতির গরু। ক্ষতিকর বিভিন্ন দিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকায় মোটা তাজাকরণ গরুর দিক থেকে এবার সবাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তাই দেশি গরুর কদর বেশি।

বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ভারতীয় গরু আসা নিয়ে এখন আর ব্যবসায়ীদের মনে কোনো শঙ্কা নেই। তবে ভারতীয় গরুর প্রচুর আমদানি থাকলেও পশুর হাটের আধিপত্যে রয়েছে দেশি গরুই।

ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর কাছেই ক্রেতাদের ভিড় বেশি। তাই হাটে বড় গরুর চেয়ে মাঝারি গরুরই দাম বেশি। তবে আশার কথা হচ্ছে দুপুরের পর থেকে দাম কমতে শুরু করেছে। খেই ধরে না রেখে অল্প লাভ হলেও সামান্য দর-দামেই নিজের পশুটি ছেড়ে দিচ্ছেন বিক্রেতারা।

আর শেষদিন বলে ক্রেতারাও সে সুযোগ হাতছাড়া করছেন না। ফলে রাজশাহীর বৃহত্তম পশুর হাট সিটি হাট এখন জমজমাট। ক্রেতা-বিক্রেতাদের দর কষাকষিতে হাটের প্রতিটি প্রান্ত থেতেই কানে ভেসে আসছে বিপুল লোক সমাগমের ধ্বনি। ক্রেতারা চেষ্টা করছেন, কিভাবে আরও কম দামে গরু-ছাগল পাওয়া যায়। আর বিক্রেতারাও চাইছেন, একটু কম দাম হলেও তা বিক্রি করে কিভাবে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরা যায়।

ক্রেতা-বিক্রেতা ও হাট কমিটির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে তিনদিন ধরে হাট জমে উঠেছে। তবে বৃহস্পতিবারই লোক বেশি এবং অন্যদিনের তুলনায় দামও কম। সকাল ৬টা থেকেই মহানগরীর আশেপাশে থেকে হাটে আসা শুরু করেছে গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া।

দুপুর থেকেই জমে ওঠে হাট। পশুর হাটে বেচা-কেনা চলছেই। বিকেলে মুখরিত হয়ে ওঠে হাট ও তার আশেপাশের এলাকা। সন্ধ্যা গড়িয়ে চাঁদ রাতের এ বেচা-কেনা চলবে ভোর রাত পর্যন্ত।

মহানগরীর সপুরা এলাকার শফিক আহম্মেদ জানান, বেলা ১১টায় হাটে এসেছেন। গরু দেখেছেন ঘুরে ঘুরে। গত কয়েকদিন আগেও দাম বেশ চড়া ছিলো। কিন্তু আজকের দাম অনেকটাই নাগালের ভেতরে। তাই দুপুর গড়ানোর আগেই দরদাম করে ৪২ হাজার ২০০ টাকায় গরু কিনেছেন তিনি।

তিনি বলেন, বড় গরুর দাম কম। হাটে দেশি মাঝারি এবং ছোট আকারের গরুরই দাম হাঁকানো হচ্ছে বেশি। তবে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যেই বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি সাইজের গরু ৪২ থেকে ৬০ হাজার টাকা ও বড় সাইজের গরুগুলো ৬৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকায় মিলছে বলে জানালেন তিনি।

এছাড়া ছাগলের দামও আগের দিনের তুলনায় কম। ১০ থেকে ১২ কেজি ওজনের ছাগলের দাম ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। ১৪ থেকে ১৮ কেজি ওজনের ছাগলের দাম ৭ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা ও বড় সাইজের ছাগলের দাম ১২ থেকে ২০ হাজার টাকার বিক্রি হচ্ছে। সিটি হাটে এমনটাই জানালেন মহানগরীর সুলতানাবাদ এলাকার ক্রেতা লিয়াকত আলী শিকদার।

পবার নারিকেলবাড়িয়া থেকে হাটে ৫টি গরু নিয়ে এসেছেন গোলাম মোস্তফা। তার সবচেয়ে বড় গরুটির দাম হাঁকছেন তিনি ৯০ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত হাটে তিনি ৩০টির মতো গরু বিক্রি করেছেন।

বেচা-কেনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমাদের গরুর খামার আছে। সারা বছর গরু পালনের পর হাটে নিয়ে এসেছি। কিন্তু যতোটা লাভ আশা করেছিলাম, শেষ মুহূর্তে ততোটা লাভ হচ্ছে না।

রাজশাহী সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু বলেন, এবার শেষদিকে ভারতীয় গরুর আমদানি ভালোই হয়েছে। তবে দেশি গরুরই চাহিদা বেশি। বিক্রেতারা প্রথম দিকে চড়া দাম হাঁকলেও শেষদিনে সে অবস্থান থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে সবাই গরু কিনেই বাড়ি ফিরছেন।