স্থবির রাসিকের কার্যক্রমে নগরবাসীর ক্ষোভ: আবর্জনায় ভরা নগরীর ড্রেন সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন

রাজশাহী

upo

রাজশাহী নগরীর অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত ‘উপশহর’ এখন আর অভিজাত নেই। ড্রেন উপচে ময়লা অবর্জনা, যত্রতত্র খানা খন্দকে ভরে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সবার আগে জলমগ্ন হওয়ার দৃশ্য এখন এক সময়ের নিরিবিলি আবাসিক এলাকা উপশহরে মিলবে সহজেই।

রাজশাহীর বর্তমান সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ অনেক রাজনৈতিক নেতার পাশাপাশি ভিআইপিদের ঠিকানা এই উপশহরে এখন কেউ প্রবেশ করলেই আতকে উঠবে নোংরা আবর্জনার চিত্র দেখে। উপশহরের বাসিন্দারাও ক্ষিপ্ত ও বিরক্ত এলাকার করুন দশা দেখে।

একদিকে মশার উৎপাত অন্যদিকে ড্রেন উপচে ময়লা আবর্জনা এখন চির জঞ্জালে পরিনত হয়েছে উপশহরজুড়ে। এ অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলেও সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের যেনো কোন দায় নেই। এ এলাকায় বসবাসকারীরা এখন ক্ষোভ প্রকাশ করেই মনের ঝাল মেটাচ্ছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আগের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন থাকাকালীন কিছুটা পরিচ্ছন্ন হয়েছিলো উপশহরের চিত্র। তবে নতুন মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নির্বাচিত হওয়ার পর অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজের গতি হারায়। আর তিনি আত্মগোপনের পর স্থবির হয়ে পড়ে সবধরনের সংস্কারের কোনো কাজ না করায় বর্তমানে করুণ অবস্থায় ঠেকেছে উপশহরের অবস্থা।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার কালবৈশাখীর সঙ্গে ৪১ মিলিমিটারের বৃষ্টিপাতে কোমর পানি জমে যায় উপশহরের অলিগলি। অনেক বাড়িতে ড্রেন উপচে পানির সঙ্গে মিশে উঠেছে ময়লা আবর্জনা। এতে সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয় উপশহরের বাসিন্দাদের। কোমর পানি মাড়িয়ে বাড়ি ফেরার সময় মঙ্গলবার বাসিন্দাদের ক্ষোভ ঝাড়তে দেখা যায়।

উপশহরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপশহরের এ অবস্থা নতুন নয়। সামান্য বৃষ্টিপাতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে। ড্রেন পরিষ্কার করা হয় নি। মশা মারার কার্যক্রম নেই সিটি করপোরেশনের। মশার উপদ্রুপে দিনের বেলায় ঘরে টেকা দায় হয়ে পড়ে।

মাত্র ৩০ মিনিটের বৃষ্টিতে রাজশাহী মহানগরীতে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় বিড়ম্বনায় পড়েন নগরবাসী। শুধু তাই নয়, এ সময় নগরীর দড়িখরবোনা, সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, তেরখাদিয়া, নিউমার্কেট, কাদিরগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, ঝাউতলা, ভাটাপাড়া এলাকাসহ আশেপাশের এলাগুলোতে চরম জলাবন্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে বাড়ি ফেরা মানুষকে চরম বিড়ম্বনার পড়তে হয়।

বৃষ্টি শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই নগরীর উপশহর এলাকার রাস্তাগুলো পানিতে ডুবে যায়। ব্যস্ত এ আবাসিক এলাকায় মানুষকে পড়তে হয় চরম অসুবিধায়। ড্রেন উপচে পানি অনেকের বাড়িতে প্রবেশ করে। উপশহর এলাকার স্কুল শিক্ষক সিরাজুন মুনিরা বৃষ্টি শেষে বাড়ি ফেরেন হাঁটু পানি মাড়িয়ে। ক্ষোভ ঝেড়ে তিনি বললেন, আসলে এটা উপশহর নয়, উপকূল। সামান্য বৃষ্টিতেই জমে যায় পানি। সহজে পানি নামে না।

জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে ড্রেনগুলো পরিষ্কার না করার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পরেই হাঁটু পানিতে রাস্তাঘাটগুলোতে ভরে যায়। নগর জুড়ে জলাবন্ধতার কারণে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন সাধারণ মানুষ। অনেকে অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনগুলো পরিষ্কার না করার কারণে অল্প বৃষ্টিতেই পানি ড্রেন উপচে রাস্তা ভরে যায়। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নেয়া হয় না কোন ব্যবস্থা। স্থবির সিটি করপোরেশনের কারণে নাগরিক সেবা পাচ্ছেন না নাগরিকরা।

তবে সিটি করপোরেশনের একটি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার আতঙ্কে সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলসহ ২২ জন কাউন্সিলর পালিয়ে আছেন আড়াইমাসের বেশী সময় ধরে। ফলে নগরসেবা কেন্দ্র সিটি করপোরেশন নিজেই বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে। নগর উন্নয়নের কার্যক্রমে হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে। কর্মকর্তারাও গা বাঁচিয়ে দায় এড়িয়ে চলছেন।

সুত্রঃ সানশাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published.