স্মার্টফোন শুধু হারিয়ে যায়? জেনে নিন সুরক্ষিত থাকার কিছু উপায়

তথ্য প্রযুক্তি

প্রযুক্তিও যেমন বাড়ছে তেমনি আমাদের হাতের স্মার্টফোনও পরিবর্তন হচ্ছে দ্রুত। প্রযুক্তির সাথে পাল্লা দিয়ে এবং যুগের সাথে তাল মেলাতে আমরা সবাই প্রায় চেষ্টা করে থাকি নতুন নতুন সব স্মার্টফোন ব্যবহার করতে। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে, আমাদের হাতে মোবাইলও যেমন বাড়ছে তেমনি মোবাইল হারাচ্ছে বা চুরিও হচ্ছে বেশই। আমরা কিছুটা সাবধান হলেই কিন্তু এই চুরি বা হারিয়ে যাওয়া কিছুটা হলেও রোধ করতে পারি, অন্তত সতর্কতো হতে পারি! সেই প্রক্রিয়াগুলোই আপনাদের সাথে আজ শেয়ার করতে চেষ্টা করব।

১। পুরাতন মোবাইল ব্যবহার করতে পারেন

ধরুন, আপনি এমন কোথাও যাচ্ছেন যেখানে কোলাহল বা মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। যেমন, পার্টি, বিয়ের অনুষ্ঠান, কনসার্ট, জন্মদিনের দাওয়াত ইত্যাদি। সেসব ক্ষেত্রে পরিচিত মানুষের তুলনায় চারপাশে অপরিচিত মানুষের সংখ্যা বেশি থাকে। আর অপরিচিত মানুষ সাধু না চোর তা আপনার পক্ষে বুঝে নেয়া নিশ্চয়ই সহজ নয়। তাই আপনি যখন অনেক মানুষের মাঝে যাবেন তখন আপনি আপনার পুরাতন ফোনতি নিয়ে যেতে পারেন। যদিও টাইটেলে লিখেছিলাম হারানো বা চুরি করা প্রতিরোধ করা এবং এই পয়েন্টটি শতভাগ টাইটেলর সাথে মেলে না তবুও আপনার অনেক দামি স্মার্টফোনটি হারানোর চাইতে নিশ্চয়ই অব্যবহারিত পুরাতন ফোনটি সুরক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করাই ভালো, কি বলেন?

২। স্মার্টফোনটি লক করে রাখুন, ব্যবহার করতে পারেন অন্যান্য লকিং টেকনিক

অনেকেই স্মার্টফোন লক করে রাখেন না। শুধুমাত্র স্লাইডার বা লক স্ক্রিনের উপরের সাধারণ প্রাইমারী লকটি ব্যবহার করেন যা মূলত বলা চলে “গুড ফর নাথিং”! এই লক স্লাইডার হয়তো আপনার পকেটে স্মার্টফোন থাকা অবস্থাতে আপনার অজান্তেই অন্য কোথাও হঠাত কল চলে যাওয়া থেকে আপনাকে সুবিধা দেবে কিন্তু হারিয়ে গেলে বা অন্য কারো হাতে আপনার স্মার্টফোনটি পরলে কোন রকম সুরক্ষা প্রদানে সক্ষম হবেনা। আপনি আপনার স্মার্টফোনে থাকা নিউমিউরিক লক বা প্যাটার্ন লক ব্যবহার করে দেখতে পারেন। বর্তমানের বেশ কিছু স্মার্টফোনে আবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার যোগ হয়েছে যা সুরক্ষায় অতিরিক্ত চমৎকার একটি লেয়ার হিসেবেই আপনাকে সেবা দিতে সক্ষম। তাই বলবো আলসেমি করে লক না ব্যবহার করা আপনাকেই বিপদে ফেলবে। তাই লক ব্যবহার করুন।

3

৩। এন্টিভাইরাস ব্যবহার করুন, একটু অন্য ভাবে

এন্টিভাইরাস অ্যাপলিকেশনগুলো আমরা ব্যবহার করে থাকি সাধারণত বিভিন্ন প্রকার ম্যালওয়্যার থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য। কিন্তু আমরা ইচ্ছে করলেই এই এন্টিভাইরাসগুলোকে আমরা অন্য ভাবে ব্যবহার করতে পারি। প্রায় প্রতিটি এন্টিভাইরাস প্রোগ্রামেই একটি “থেফট অ্যাালার্ম” নামের একটি সুবিধা থাকে। যে সুবিধাটি আপনি যদি চালু করে রাখেন তবে আপনার ফোনটি হারিয়ে গেলে বা কেউ চুরি করে নিলে আপনি অন্য ডিভাইস থেকে আপনার স্মার্টফোনে মেসেজ পাটাতে পারবেন যার ফোলে আপনার স্মার্টফোন থেকে অনবরত একটি আওয়াজ হতে থাকবে যা চোর বন্ধ করতে পারবেনা।

2

৪। সেন্সেটিভ আপগুলোর জন্য যোগ করুন বাড়তি পাসওয়ার্ড

আলাপের এপর্যায়ে আলাপের খাতিরেই ধরে নিচ্ছি যে আপনার স্মার্টফোনটি হারিয়ে গিয়েছে বা চুরি হয়ে গিয়েছে। এখন আমাদের ডেইলি ড্রাইভার হিসেবে যখন আমরা স্মার্টফোন ব্যবহার করে থাকি তাই অনেক প্রকার জরুরী তথ্য আমাদের স্মার্টফোনে থাকে যা ভুল হাতে পরলে হয়তো ক্ষতি হবার সম্ভাবনাই থাকে বেশি। তাই আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় সব আপগুলোতে ব্যবহার করতে পারি বাড়তি পাসওয়ার্ড। ফলে আপনার স্মার্টফোনটি হারিয়ে গেলেও সেই সেন্সেটিভ আপগুলোতে এক্সেস করতে পারবেনা অন্য কেউ।

৫। চুরি হয়েই গিয়েছে? দ্রুত মুছে ফেলুন সব ডাটা

উপরের পয়েন্টটিকেই এক্সটেন্ড করছি এখানে। ধরুন আপনার স্মার্টফোন চুরি হয়েই গিয়েছে এবং আপনি কোন আপের জন্যেও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন নি। চিন্তিত হবার কোন কারণ নেই, কেননা আপনি ইচ্ছে করলেই অ্যান্ড্রয়েড ডাটা ম্যানেজারের সাহায্যে রিমোটলি সেই অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস থাকা সমস্ত তথ্য মুছে ফেলতে পারেন। তবে এই আপটি আপনার ফোনে থাকতে হবে এবং ইনাবল করা থাকতে হবে। আপনি সহজেই আপনার ডাটাগুলো এর মাধ্যমে মুছে নিরাপদ থাকতে পারবেন।

1

শেষ কথা

শধু চুরি হওয়া বা হারিয়ে যাওয়া থেকে বন্ধ করার জন্যেই নয় বরং হারিয়ে যাবার পর কি করনীয় তাও যোগ করে দিলাম আজকের লেখায়। কেননা আমার কাছে মনে হল এই পয়েন্টগুলোও এই লেখাটির সাথে সম্পর্কিত। যাই হোক, আশা করি আপনাদের কাজে আসবে এই লেখাটি। আর যদি সত্যিই তাই হয় তাহলে এখানেই আমার সার্থকতা।