স্মৃতিচারণঃ মোবাইল ফোন ও অন্যান্য

সাহিত্য

মোবাইল ফোন ও অন্যান্য
-হিমু অমি

সময়টা ২০০৭ সালের কোনো এক বিকেল। আমাদের বাসায় সেদিন প্রথম মোবাইল আসলো। সেটা ছিল একটি সাধারণ নোকিয়া মোবাইল। সারারাত আমি আর আমার আপু মোবাইল এর রিংটোন বাজালাম। সেই মোবাইল ছিল আমাদের কাছে এক অত্যাশ্চার্য জিনিস।

এর পর ধীরে ধীরে সময় গড়ালো। ২০০৯ সালে আমাদের বাসায় আসলো আরেকটা মোবাইল। আগের মোবাইলটি ছিল সাদাকালো আর এই মোবাইল ছিল রঙিন। মোবাইলে এক্সটারনাল মেমোরি বলে যে কিছু থাকে, সেটার সাথে তখনও পরিচয় ঘটেনি। মোবাইলের ইন্টারনাল মেমোরি ছিল ৫১২ কিলোবাইট এর। তখন অবশ্য আশে পাশের মানুষজনের ইয়া বড় বড় চায়না মোবাইল দেখতাম আর অবাক হয়ে যেতাম। তবে হাতে নিয়ে দেখার সুযোগ হয়নি তেমনভাবে। তো সেই ৫১২ কিলোবাইট মেমোরি দিয়ে ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ড রেকর্ড করা যেত। ছোট থেকেই গান শুনতে ভালো লাগত। ওই ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে আমি রেকর্ড করতাম আমার পছন্দের গান এর শুরুর অংশটুকু। তবে এখানেও বিপত্তি ছিল। আমাদের বাসাতে কোনো ক্যাসেট প্লেয়ার ছিল না, তাই রেকর্ড করতে হত টিভির সামনে যেয়ে। গানের চ্যানেলে ওই গান বেজে উঠলে অনেক জোরে টিভির ভলিউম দিয়ে রেকর্ড করতাম। এর জন্য মা’র কাছে যে কত কথা শুনতে হয়েছে!

 

২০০৯ সালের শেষের দিকে পড়তে যেতাম আমার এক খালাতো বোনের কাছে। পড়া ভালো পারলে পুরষ্কার স্বরুপ ছিল তার মোবাইলের হেডফোনে গান শুনা। ২০১০ সালে সারাদেশে মনপুরা সিনেমার গান নিয়ে তোলপাড় চলছে। তখন সেই আপুর মোবাইলে সে গান শোনার লোভে যেদিন পড়া নেই, সেদিন ও যেতাম।

কৃষ্ণকলি যখন ‘যাও পাখি বল তারে…’ বলে গেয়ে উঠতেন তখন এক অদ্ভুত ভালোলাগা তৈরী হত। সাথে সাথে এটাও মনে হত, ইশ, আমার কবে নিজের মোবাইল থাকবে, কবে হেডফোন থাকবে…

 

২০১১ সালে যখন নিজের মোবাইল প্রথম হাতে পায়, সারারাত গান শুনেছিলাম। মোবাইল কেনার সময় বাসায় সাড়ে তিনশ টাকা দাম বাড়িয়ে বলেছিলাম, যাতে মেমোরি কার্ড কিনতে পারি। সেই দুই জিবি মেমোরি কার্ডে গান ছিল মাত্র ৪ টা। সেই চারটা গানই সারারাত ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে শুনতে রাত পার।

 

চার বছর পরে, ২০১৫ সালে হাতের কাছে এখন ল্যাপটপ, মোবাইল সবই আছে। যদিও অনেকেই বলে এই সময়েও কেন একটা স্মার্ট ফোন নেই কেন, তখন শুধু মনে মনে হাসি। ইচ্ছা করলেই এখন যেকোনো গান যে কোনো সময়ে শুনতে পারি। তবে এখন আর আগের মত আবেগ গুলো কাজ করে না! বড় বেশি যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছি কি-না আমরা সবাই!