‘হাসপাতালের বেডে ঈদ করার যন্ত্রণা বুঝবেন না’

জাতীয়

দেশব্যাপী বইছে কোরবানির ঈদের আনন্দ। ধনী-গরিব, ছোট-বড়, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই ঈদ আনন্দে শামিল হয়েছে। শুধু আনন্দ নেই হাসপাতালগুলোতে। হাসপাতালের বেডে শুয়ে-বসেই ঈদ কাটছে ডেঙ্গু আক্রান্তদের।

সোমবার (১২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় তাদের মনের কষ্ট।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র মো. রুবেল ডেঙ্গু ওয়ার্ডের ১ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, গত বছর ভর্তি পরীক্ষার জন্য কোরবানির ঈদে বাড়ি যেতে পারেনি। এবার যেতে পারলাম না ডেঙ্গুর কারণে। বাড়িতে মা, ভাই-বোন আছে। সবাইকে ছাড়া ঈদের দিন একা একা হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকার যন্ত্রণা বুঝবেন না! এখন অপেক্ষা, কবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবো।

নীলফামারী সদরের পলাশবাড়ীর ইমান আলীর ডেঙ্গু রোগ ধরা পরায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিন দিন আগে। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে এখন কিছুটা ভালো মনে হচ্ছে। তবে, খেতে পারছি না। শরীর দুর্বল লাগে। বাড়িতে ছেলেমেয়েসহ সবাই আছে। একসঙ্গে ঈদ করতে পারলে ভালো লাগতো। কিন্তু ডেঙ্গুর কারণে এখানে একা একা কাটাতে হচ্ছে ঈদের দিন।

একই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন মোহাম্মদ আকিক। সুস্থ হয়ে ওঠায় চিকিৎসক তাকে রিলিজ দিয়েছেন। একারণে মহাখুশি তিনি। আকিক বাংলানিউজকে বলেন, ভেবেছিলাম বাড়িতে গিয়ে মা-বাবার সঙ্গে ঈদ করা হবে না। কিন্তু, ঈদের দিনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছি, এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ।

সুস্থ হয়ে কেউ যখন বাড়ি ফিরছেন, ঠিক তখনই নতুন কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। তেমনি একজন মিরপুর ৬০ ফিটের বাসিন্দা কাওসার। রোববার (১১ আগস্ট) ডেঙ্গু ধরা পড়েছে। সোমবার (১২ আগস্ট) সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি।

কাওসার বলেন, সামান্য জ্বর জ্বর ছিল বলে একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেই। কিন্তু, জ্বর কিছুতেই কমছিল না। রোববার পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়েছে। একারণে ঈদের দিন হাসপাতালে ভর্তি হতে হলো। এর থেকে বেশি কষ্টের আর কী আছে? তারপরেও যেন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারি, এটাই কামনা।

এদিকে, হাসপাতালের পক্ষ থেকে সকালে রোগীদের বিশেষ নাশতার ব্যবস্থা করা হয়। এতে ছিল পায়েস ও রুটি। দুপুরের খাবারেও রয়েছে বিশেষ আয়োজন।

ঈদের দিন হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু আক্রান্তদের মতো অন্য রোগীদেরও মন খারাপ। সবাই যখন ঈদের আনন্দ করছে, তখন হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তারা। এখন দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরাই একমাত্র আশা তাদের।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর