হয়তো শিশু বলেই!

বিচিত্র রাজশাহী

aazzan_khanগতকাল ফেসবুকে উপরের ছবিটি দিয়ে একটি ঘটনার কথা লিখেছেন রাজশাহীর আযান খান। সেই হৃদয় বিদারক ঘটনাটি প্রিয় পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো।


গত ২৪/০৩/১৫ তারিখের রাজশাহীর রেলওয়ে হাসপাতালের একটি ঘটনা যা দেখে হয়তো কেউ হাসতো, আবার আফসোসও করতো। যাই হোক ঘটনাটি নিচে তুলে ধরলাম।

কারও মা মারা গেলেও হয়তো এমনভাবে কেউ কাঁদে না !!!

আজ আমি আমার নাইট সিফট ডিউটি করার জন্য অফিসে (রেলওয়ে হাসপাতাল ) যাই। ডিউটি হাজিরা স্বাক্ষর করে বাইরে এসে দেখি গেটের বাইরে ভিড়। সেখানে গিয়েই দেখি, এক ছোট ছেলে কাঁদছে।

আরো কছে গিয়ে দেখি, রাজশাহী রেল স্টেশনের এক পথশিশু একটি কুকুরের বাচ্চা কোলে নিয়ে কাঁদছে। তার কাছে শুনতে চাইলাম, কী হয়েছে?

সে আমার কথা শুনেই আরো জোরে কেঁদে উঠে বলে, ভাই আমার এই কুকুরের বাচ্চাটাকে বাঁচান।

আবারো শুনতে চাইলাম, কী হয়েছে?
সে তখন আরেকবার কুকুরের বাচ্চাটাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে, ট্রেনে বাচ্চাটার পা কাটা গেছে। ডাক্তার কই, আমার এই বাচ্চাটাকে ঠিক করে ড্রেসিং করে ঔষধ দিতে বলেন।

অনেকেই কুকুরের বাচ্চা বলে হেলা করে তাকে বললো, এটা এখানে করা যাবে না পশু হাসপাতালে নিয়ে যা; আর এখান থেকে সরা এটা।

কিন্তু ছেলেটার করুন কান্না দেখে আমি ড্রেসিং-এর কিছু গজ তুলা নিয়ে আসলাম। আমি ও আমাদের ওটি এ্যাসিস্টেন্ট কাকা মিলে ড্রেসিং করে দিলাম।

কখনো কেউ হয়তো এসব অবহেলিত প্রাণীর কথা চিন্তা করে মনে মনে ইস, আহ – এভাবেই আফসোস করি। যার কেউ নেই, তার আল্লাহ আছেন।

আমরা কি জীবের প্রতি এভাবে সদয় হতে পারি না?

Leave a Reply

Your email address will not be published.