১৪ বছরের ছেলের সাথে এক গৃহবধূ বিয়ে…..

বিচিত্র

পুলিশের তাড়ায় অবশেষে ভণ্ডুল হয়ে গেল কিশোর মিঠুনের (১৪) অন্যরকম বাল্যবিয়ে। ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্বপাড়া এলাকায়।

এতদিন শিশু বা কিশোরী মেয়েদের বাল্যবিয়ের খবর শোনা গেলেও কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এবার ঘটতে যাচ্ছিল এর উল্টোটা। অর্থাৎ মেয়ে নয়, বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছিল মিঠুন (১৪) নামে এক কিশোর। যার সঙ্গে ওই কিশোরের বিয়ের সব আয়োজন পাকাপোক্ত হয়েছিল তিনি একজন গৃহবধূ। কিশোর মিঠুনের চেয়ে বয়সে অন্তত ৬ বছরের বড়। তবে বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন হলেও শেষমেশ এ বিয়ে হয়নি। রোববার রাতে পুলিশের তাড়ায় ভেঙে গেছে অন্যরকম এ বাল্যবিয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের সাদ আলীর কিশোর মিঠুন প্রতিবেশী করিমন চালক সেন্টুর স্ত্রী টুনি খাতুনের (২০) সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় কানাঘুঁষা চলে আসলেও রোববার তা পরিষ্কার হয়ে যায়। স্ত্রীর পরকীয়ায় লিপ্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে স্বামী সেন্টু দুপুরের দিকে তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন। একপর্যায়ে গৃহবধূ টুনি তার স্বামীকে তালাক দিয়ে কিশোর বয়সী পরকীয়া প্রেমিক মিঠুনকে বিয়ে করার সিদ্ধান্তের কথা সাফ জানিয়ে দেন। মিঠুনও ওই গৃহবধূকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে যায়। এরপর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি মিঠুন তার পরিবারকে জানায়।

এ ঘটনায় বিকেলে এলাকায় দুই পরিবারকে নিয়ে শালিস হয়। এ সময় গৃহবধূ টুনি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় ওই শালিসে রাতেই কিশোর মিঠুনের সঙ্গে তার বিয়ের বিষয়টি পাকাপোক্ত হয়ে যায়। এ বিয়ের আগে টুনি তার স্বামী সেন্টুকে তালাক দেবে বলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গৃহবধূ টুনি এসে অবস্থান নেয় তার নতুন হবু স্বামীর বাড়িতে। কিন্তু অসম এই বিয়ের সব আয়োজন যখন সম্পন্ন হয়, ঠিক তখনই এতে বাধ সাধে পুলিশ।

খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পূর্বপাড়া এলাকায় মিঠুনের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের তাড়া খেয়ে মিঠুন, তার হবু স্ত্রী টুনি ও পরিবারের লোকজনসহ উপস্থিত লোকজন সেখান থেকে পালিয়ে যায়। মুহূর্তেই ভেস্তে যায় বিয়ের সমস্ত আয়োজন।

দৌলতপুর থানার ওসি (প্রশাসন) আমিনুল ইসলাম বিপ্লব জানান, তারা দুজন দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্ক চালিয়ে আসছিল। পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় এই পরকীয়ার সূত্র ধরে তারা প্রায়ই অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হতো। এরকম অসম বিয়ের খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। এ সময় পুলিশের তাড়ায় সবাই পালিয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিয়েটি ভেঙে যায়।