২০১৭-কে চিহ্নিত করবে যেসব বিশ্ব ভবন

বিচিত্র

 

 

কৃত্রিম স্থাপনা প্রকৃতির সৌন্দর্যহানি ঘটনায় সেকথা অনুস্বীকার্য। কিন্তু স্থাপত্য শিল্প বিশ্বকে সৌন্দর্য্যমণ্ডিতও করে তোলে। যুগে যুগে কালে কালেই তা হয়েছে। প্রাচীন স্থাপত্যের কথা যেমন এখন বলা হয়। এখনকার স্থাপত্য নিয়েও তো কথা হবে সুদুর ভবিষ্যতে।

তাতে ২০১৭ সালকে চিহ্নিত করে রাখবে কতিপয় ভবন।  এখানে তার কয়েকটি উদাহরণ। সিএনএন থেকে নিয়ে বাংলানিউজের পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।
নেপোলি-আফ্রাগোলা হাইস্পিড ট্রেন স্টেশন
যে কেউ এই ভবনটি দেখে সাপের সর্পিল গতিকেই স্মরণ করবেন। কিংবা মনে হতে পারে একটি চলন্ত ট্রেন। তাতে খুব যে অন্যায় কিছু হয়ে যাবে তা নয়! কারণ ট্রেন না হলেও এটি ট্রেন স্টেশনতো। নেপোলি-আফ্রাগোলা হাইস্পিড ট্রেন স্টেশন এটি। ইতালির বৃহত্তর নেপোলির আফ্রাতোলা শহরের এই স্পেশন থেকে ট্রেন চলবে নেপোলি ও রোমের মধ্যে। দীর্ঘ নির্মাণ প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। ২০১৭ সালেই এই স্টেশন আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়ে যাবে।
চার তলা বিশিষ্ট ভবনটির ভেতরটা এমনই
এই অনিন্দ্য সুন্দর রেল স্টেশনের স্থপতি জাহা হাদিদ। ২০০৩ সালের নভেম্বরে তিনি এর নকশা জমা দেন। শুরু থেকেই ভেবে নেওয়া হয়েছিলো রেল ট্রাকের ওপর দিয়ে একটি ব্রিজের মতো করেই এই স্টেশন ভবন গড়ে উঠবে। চার তলা বিশিষ্ট হবে ভবনটি। ২০০৯ সালে এটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা থাকলেও নানা জটিলতায় এর নির্মাণ কাজ শেষ হতে সময় লেগে যায়।

প্যারিসের বিশ্বখ্যাত লুভ জাদুঘরের ইউএই শাখা

লুভ আবুধাবি সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক নয়া দৃষ্টিনন্দন ভবন। শেষ হওয়ার কথা ছিলো ২০১২ সালে তবে শেষ পর্যন্ত তা ২০১৭’য় এসে ঠেকেছে। বিশ্বখ্যাত স্থপতি আতেলি জঁ নুভেল এটি নির্মাণে ৬৫৩ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন। এটি প্যারিসের বিশ্বখ্যাত লুভ জাদুঘরের ইউএই শাখা।
লেগো হাউজ

লেগো হাউজ ডেনমার্কের বিলুন্ডে নির্মিত এক অনন্য সাধারণ ভবন। এটি একটি কমিউনিটি সেন্টার হিসেবেই ব্যবহৃত হবে। আর দর্শনার্থীরা এখানকার ক্যাফে উপভোগ করতে পারবেন। পারিবারিক-বন্ধুত্বের পরিবেশে খেলাধুলার সুযোগ থাকবে, জনসমাগমও সম্ভব হবে আর সর্বোপরি একটি লেগো স্টোর তো থাকবেই। ৮২ হাজার বর্গফুটের ওপর নির্মিত এই ভবনের উচ্চতা ১০০ ফুট। ২০১৪ সালে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৬’র মাঝামাঝিতে তা শেষ হয়। ডেনমার্কের বিলুন্ড লেগোর নগরী হিসেবেই সুপরিচিত।
জিৎস মিউজিয়াম

আফ্রিকার সমসাময়িক চিত্রকর্মের সমাহার থাকবে এই জিৎস মিউজিয়ামে। এটি ২০১৭ সালের অন্যতম প্রধান জাদুঘর প্রকল্পের একটি। কেপটাউনের ঐতিহাসিক শস্যভাণ্ডার কমপেক্সটিই পরিণত হচ্ছে জাদুঘরে। এক লক্ষ বর্গফুট এলাকা জুড়ে নির্মিতব্য এই ভবন আফ্রিকার সবচেয়ে বড় জাদুঘর হতে যাচ্ছে।
হুয়াংশান মাউন্টেন ভিলেজ

হুয়াংশান মাউন্টেন ভিলেজ চীনের আনুহি প্রদেশের হুয়ানশান মাউন্টেইনস বা হলুদ পর্বতমালার ভেতরে গড়ে ওঠা ভবনের সমারোহ। চাবাগান ঘেরা এই পার্বত্য এলাকায় প্রতিটি ভবনের উচ্চতা ২০০ ফুট। এসব ভবন সরকারি ও বেসরকারি উভয় কাজেই ব্যবহার করা হবে। আবাসন, হোটেল, নানা ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের ব্যবস্থাও এখানে থাকবে। ভবনগুলো এমন আকৃতি ও রঙে তৈরি যা এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্যের সাথে দারুণভাবে মানিয়ে গেছে।
গার্ডিয়ান আর্ট সেন্টার
বেইজিংয়ের গার্ডিয়ান আর্ট সেন্টার মূলত চীনের সবচেযে পুরোনো নিলাম ঘর। পুরোনা ধাচকে রেখে নতুন উপকরণে এই ভবনটি তৈরি হয়েছে। ফলে অসাধারণ সৌন্দর্দমণ্ডিত হয়ে উঠেছে এই ভবন।
ব্ল্যাভান্ড বাঙ্কার মিউজিয়াম

ব্ল্যাভান্ড বাঙ্কার মিউজিয়াম ডেনমার্কের ভার্ডেতে গড়ে ওঠা নতুন জাদুঘর। এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিজার্ক ইঙ্গলস গ্রুপ অভিনব কিছু করতেই অভ্যস্ত। আর ২০১৭ সালে এই জাদুঘরই হতে যাচ্ছে তাদের নতুন চমক। নামের সঙ্গেই রয়েছে এর নকশার মিল। পাহাড় ঘেরা এই অঞ্চলে জার্মান মিলিটারি আস্তানা গেড়েছিলো। সেখানেই যে বাঙ্কারগুলো তৈরি হয় তার আদলেই তৈরি হচ্ছে এই জাদুঘর।
সেন্ট্রো বোটিন

স্পেনের ক্যান্টাব্রিয়ার সেন্ট্রো বোটিন একটি সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও কলা কেন্দ্র, অবসর যাপনের জন্যও হতে পারে এই কেন্দ্রের ব্যবহার। রেনজো পিয়ানি বিল্ডিং ওয়ার্কশপের এই নতুন প্রকল্প তৈরি হচ্ছে মাদ্রিদভিত্তিক লুই ভিদালের স্থপতিদের হাতে। এই ভবনের অর্ধেকটা মাটির ও অর্ধেকটা পানির ওপর।
৫২০ ওয়েস্ট টুয়েন্টি এইটথ স্ট্রিট

নিউইয়র্কের ৫২০ ওয়েস্ট টুয়েন্টি এইটথ স্ট্রিট ঠিকানায় ১১ তলা বিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবন এখন নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। প্রিৎসকার পুরস্কার জয়ী স্থপতি জাহা হাদিদের নকশায় তৈরি এই ভবনে ঘটেছে কাঁচ আর আলোর অনন্য ব্যবহার।

খবরঃ বাংলানিউজ