২০২১ এর মধ্যে শেষ হচ্ছে রাজশাহীর হাইটেক পার্ক নির্মাণ

রাজশাহী

২০২১ সালের মধ্যেই শেষ হচ্ছে রাজশাহীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হাইটেক পার্কের নির্মাণ কাজ। আর ২০২৫ সাল নাগাদ এই হাইটেক পার্কেই কর্মসংস্থান হবে অন্তত ১৪ হাজার তরুণ-তরুণীর।

এমনটাই আশাবাদ প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের।

২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এই হাইটেক পার্ক নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন দেয়। এরপরের বছরের ১৩ জানুয়ারি সড়কবাতি, ভূমি উন্নয়ন এবং অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর হাইটেক পার্কের মূল অংশের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সম্প্রতি রাজশাহীতে হাইটেক পার্কটির প্রকল্প এলাকা ঘুরে জানা যায়, প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পটির মূল অংশ দুই ভাগে বিভক্ত। একটি হলো, শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেশন অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার। অপরটি হলো, সজীব ওয়াজেদ জয় সিলিকন টাওয়ার। এর মধ্যে পাঁচ তলা বিশিষ্ট শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেশন অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। অন্যদিকে ১০ তলা বিশিষ্ট জয় সিলিকন টাওয়ারের কাজও দ্রুত গতিতে চলছে।

প্রায় ৭২ হাজার বর্গফুট আয়তনের শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেশন অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে ইতোমধ্যে অফিস স্থাপনের জন্য ১০টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে স্থান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ছয়টি প্রতিষ্ঠান তাদের অফিস স্থাপন করে পুরোদমে কার্যক্রমও শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো – অ্যারো ডেস্ক, টেক রাজশাহী, ফ্লিট বাংলাদেশ, এএসটিজিডি, এমডি ইনফোটেক এবং উল্কাসেমি লিমিটেড।

ভবনটির প্রায় ২৫ হাজার বর্গফুট জায়গা অফিসসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে হবে বলে জানান জুনিয়র সুপারভিশন ইঞ্জিনিয়ার এবং হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের স্বতন্ত্র পরামর্শক জসীম উদ্দিন।

তিনি বলেন, এই ইনকিউবেশন সেন্টারটিতে অফিস স্পেস আর বাগান ছাড়াও চাইল্ড কেয়ার হোম, জিমনেশিয়াম, আইওটি ল্যাব এবং থিয়েটার করা হবে। এগুলোর কাজ প্রায় শেষ। করোনা পরিস্থিতিতে কাজ পিছিয়েছে। তবুও খুব তাড়াতাড়িই এগুলোর কাজ শেষ হবে।
অন্যদিকে প্রায় দুই লাখ বর্গফুট আয়তনের ‘সজীব ওয়াজেদ জয় সিলিকন টাওয়ার’ এর নির্মাণ কাজও এগিয়ে চলছে।

বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের একান্ত সচিব এবং ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিসেস (ওএসএস)’ এর প্রধান সমন্বয়কারী কল্যাণ কুমার সরকার বাংলানিউজকে বলেন, এই ভবনটির কাজও দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে। আর এটা হয়ে গেলে ইনকিউবেশন সেন্টারে বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই ভবনে নিয়ে আসা হবে। আর সেন্টারটি শুধু তরুণ আইটি পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ এবং ‘গ্রুমিং ও মেন্টরিং’ এর মতো কাজে ব্যবহৃত হবে।

হাইটেক পার্কে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ওএসএস এর মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান কল্যাণ কুমার সরকার।

কল্যাণ কুমার বলেন, আইটি উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী এবং বিনিয়োগকারীদের হাইটেক পার্কে কার্যক্রম শুরু করতে আমরা ওএসএস থেকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে আসছি। বিশেষ করে যারা হার্ডওয়্যার সম্পর্কিত কাজ করবেন তাদের বিভিন্ন ধরনের সনদপত্র দরকার হয়। এমন ২০টি সেবা অনলাইনে এবং অন্তত ১৪৮টি সেবা অফলাইনে একটি ওএসএস পয়েন্ট থেকেই দিচ্ছি আমরা। এখন পর্যন্ত প্রায় শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে আমরা পাঁচ শতাধিক সেবা দিয়েছি ওএসএস থেকে। এর জন্য বেজা, বেপজা, বিডা এবং বিসিক এর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ।

রাজশাহীর মতো জেলায় হাইটেক পার্ক নির্মাণের গুরুত্ব তুলে ধরে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), রাজশাহী মেডিক্যাল, রাজশাহী কলেজসহ রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালে রাজশাহীতে এক জনসভায় এই অঞ্চলের জন্য একটি হাই-টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন। তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করে আমরা ৩১ একরেরও বেশি জায়গায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক গড়ে তুলছি। রাজশাহী নগর হবে একটি প্রযুক্তি নগরী। প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থানের একটি ‘ডিজিটাল ইকোনমিকাল হাব’ হিসেবে রাজশাহীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজ