৫ জুন পর্যন্ত চারঘাট ও বাঘায় আমপাড়া-বিক্রি নিষিদ্ধ

চারঘাট বাঘা রাজশাহী

রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘায় ৫ জুন পর্যন্ত আমপাড়া ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ক্ষতিকারক কেমিক্যালের সাহায্যে কাঁচা আম পাকিয়ে তাতে ফরমালিন মিশিয়ে বাজারজাত ঠেকাতে শুক্রবার (১৫ মে) থেকে এ ব্যবস্থা নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

চারঘাটের স্থানীয় আম ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন জানান, বেধে দেওয়া এ সময়ের মধ্যে গাছেই আম পেকে যাবে, তখন তা পেড়ে নামানো যাবে। এছাড়া চারঘাট-বাঘাসহ আশপাশের উপজেলার কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী মৌসুম শুরুর আগেই অপরিপক্ক আম পাড়ছিলেন। তারা কেমিক্যাল দিয়ে আম পাকিয়ে তাতে ফরমালিন মিশিয়ে বাজারজাতের চেষ্টা করছিলেন। সে কারণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মুঞ্জুরে মাওলা জানান, উপজেলায় গুটি আম পাকার সময় শুরু হয়েছে। তবে জাত আম (গোপালভোগ-ক্ষিরসাপাত) পাড়ার সময় এখনও হয়নি। সে কারণে বিষয়টি নিয়ে আমচাষিদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কেউ যদি অপরিপক্ক আম পেড়ে কেমিক্যাল মিশিয়ে তা বাজারজাত করার চেষ্টা করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাদল চন্দ্র হালদার জানান, ফরমালিনযুক্ত আম মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। তাই এবার মাঠ পর্যায়ে কড়া নজরদারি রাখাসহ স্থানীয় আম ব্যবসায়ীদের আগামী ৫ জুনের আগ পর্যন্ত আমপাড়া ও বাজারে বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলার আম সমৃদ্ধ চারঘাট উপজেলাতেও একই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাক-বাস মালিক সমিতিকেও নির্ধারিত সময়ের আগে আম লোড-আনলোড ও পরিবহনে নিষেধ করা হয়েছে।

এর আগে গত মৌসুমের শুরুতেই রাজশাহীর চারঘাট-বাঘা এলাকার এক শ্রেণির ব্যবসায়ী অপরিপক্ক আম পেড়ে তাতে কেমিক্যাল ও ফরমালিন দিতে শুরু করেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রাক থেকে আম নামিয়ে তা ধ্বংস করে প্রশাসন।

এছাড়া বানেশ্বর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অসাধু আম ব্যবসায়ীদের জেল-জরিমানা করায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এবার যেন সে রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সেজন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।