৫ বছরেও চালু হয়নি ক্ষতিগ্রস্ত সোনামসজিদ পর্যটন মোটেল

চাঁপাইনবাবগঞ্জ রাজশাহী বিভাগ

বাংলার পুরাতন রাজধানী গৌড়ের সোনামসজিদে নির্মিত ক্ষতিগ্রস্ত অত্যাধুনিক পর্যটন মোটেলটি অর্থের অভাবে সংস্কার করে ৫ বছরেও চালু করা যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি- মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলেই সংস্কার করে চালু করা হবে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর জামায়াত-শিবির ও তাদের সমর্থকরা নবনির্মিত এ মোটেলে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।

তবে অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় আজও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে নজর কাড়া এ পর্যটন মোটেল। পরে জেলাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই মোটেলটি চালু করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান জানান, পর্যটন মোটেলটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। অর্থ বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গৌড়ের পিরোজপুর মৌজায় এক একর জমি পর্যটন করপোরেশনের নামে অধিগ্রহণ করে।

২০১০-১১ সালে পর্যটন শিল্প বিকাশের জন্য সোনামসজিদে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তিনতলা বিশিষ্ট এই মোটেলে নির্মাণ করা হয় ১৮টি ভিআইপি রুম, সাধারণ রুম ১২টি, ইকোনোমি রুম ও সাধারণের জন্য ডরমেটরি কক্ষ ১২টি, অভ্যর্থনা কক্ষ একটি, ক্যান্টিন একটি, কিচেন একটি এবং একটি সাব স্টেশন।

এছাড়াও রয়েছে অফিস ও গাড়ি পার্কিং এরিয়া। প্রায় এক একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয় এই অত্যাধুনিক পর্যটন মোটেলটি। এই মোটেল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা।

এই গৌড়ে রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর এবং মেজর নাজমুল হকের সমাধি, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের গণকবর, ঐতিহাসিক তহখানা, কামেল পীর হজরত শাহ নেয়ামতুল্লাহ (র)-এর মাজার, ছোট সোনামসজিদ, শাহ সুজার প্রাসাদ, দারুসবাড়ির মসজিদ, মাদ্রাসা, কোতোয়ালদীঘি, টাকশালদীঘি, দখলদরজা, চামাকাঠি মসজিদ, ধনাইচক মসজিদ, খঞ্জনদীঘির মসজিদসহ অসংখ্য পীর আউলিয়াদের মাজার।

এছাড়াও রয়েছে বিশাল এক দীঘি যার নাম বালিয়াদীঘি। এছাড়া এই সুপ্রাচীন স্থাপত্য দেখার জন্য দেশি-বিদেশি পর্যটকরা আসেন। সোনামসজিদে রয়েছে দেশের অন্যতম স্থলবন্দর, কাস্টমস ইমিগ্রেশন অফিস। এই বন্দর দিয়ে ভারত যাতায়াত করা হয়। পর্যটন মোটেলটি চালু হলে এলাকায় পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং সরকার প্রচুর রাজস্ব পাবে।

খবরঃ ডেইলি সানশাইন