৭২ বছর পর প্রেমিকাকে বিয়ে

বিচিত্র

বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, বড় প্রেম শুধু কাছেই টানেনা, দূরেও ঠেলে দেয়। তবে সেই প্রেমই যে আবার দূরের মানুষকে কাছেও টানতে পারে তারই অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করলেন এক যুগল। দুজনার দুটি পথ দুটি দিকে বেঁকে যাওয়ার ৭২ বছর পর আবার এক জায়গায় এসে মিলিত হলো।

সালটা ছিল ১৯৪৪। সে সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ মাথায় নিয়ে দিন কাটাচ্ছে সারা পৃথিবীর। তখন সদ্য ২১ পেরিয়েছেন রয় ভিকারম্যান। তিনি প্রেমে পড়েছিলেন সপ্তদশী নোরা জ্যাকসনের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থমাস মার্কিন সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। যুদ্ধের কারণে তিনি লন্ডন গিয়েছিলেন। আর মরিস লন্ডনেই বাস করছিলেন। যুদ্ধের সেই সময়ে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

কিন্তু ভাগ্যের অমোঘ বিধান, যে যুদ্ধের অংশ নিতে গিয়ে তাদের প্রেম, সেই যুদ্ধই আবার তাদের দূরে সরিয়ে দেয়। অবশ্য এটা কোনো অভিনব গল্প না। অনেকের জীবনেই হয়তো ঘটেছে এমন ঘটনা। কিন্তু ৭২ বছর পর আবার দুইজন একসাথে হয়েছেন- এমন উদাহরণ নিশ্চয়ই আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রেম পরিণতি না পেলেও হারিয়ে যাওয়া প্রেমিকাকে খুঁজে পেয়েছেন ৯৩ বছরের রয়।

যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন দূর্ঘটনা পরবর্তী মানসিক বৈকল্যে ভুগেছেন রয়। ২০১২ সালে মারা যায় তার স্ত্রী। এই সময়ের মধ্যে নোরাকে ভুলতে পারেননি রয়। এদিকে অস্ট্রেলিয়ায় নিজের বাড়িতে বসেই ছেলের কাছে বায়না ধরেন ৮৯ বছরের নোরা। অনলাইনে খোঁজ করতে হবে হারিয়ে যাওয়া প্রেমিকের। খুঁজেও পেয়ে যান। রয়কে খুঁজে পেয়েই তার সঙ্গে দেখা করতে চান নোরা।

এক বছর আগে রয় ভিকারম্যান স্ট্যাফোর্ডশায়ারের হার্টশেল থেকে নোরা জ্যাকসনের বাড়িতে এসে তার দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি ভাড়া করা ট্যাক্সিকে কয়েক মিনিটের জন্য বাইরে অপেক্ষা করতে বলে একগুচ্ছ ফুল নিয়ে নোরার বাড়িতে প্রবেশ করেন।

নোরা জ্যাকসন রয়কে দেখে আনন্দে ফেটে পড়েন। তাকে জড়িয়ে ধরে অব্যক্ত আবেগ প্রকাশ করেন। এরপর এক বছর পর রয়ের ৯০ তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আবার তারা বিয়ের আলাপ তোলেন ও পুনরায় বাগদান সম্পন্ন করেন। ৭২ বছর আগে তারা একবার বাদগান করেছিলেন।

তাদের স্বপ্নপূরণে স্কাইপ কল সেট আপ করেছিলেন রয়ের ছেলে স্টিভেন থমাস ও নোরার ছেলে রবার্ট মরিস। তারপরই তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে স্কাইপ। একজন যোদ্ধা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতায় তাড়িত হওয়ার কারণে তার সাবেক বাগদত্তাকে গত ৭২ বছরেও বিয়ে করতে পারেননি। তবে এতোদিনে তাদের বিয়ের ফুল ফুটেছে। এক হয়েছেন ৯০ ও ৮৯ বছরের বৃদ্ধ দম্পতি।

বাংলামেইলhttp://www.banglamail24.com/news/144388