৯৬ বছরের রাজশাহীর ঐতিহ্য হোবা ঘোষের মিষ্টি

রাজশাহী

রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পেছনের সরু রাস্তাটির ধার ঘেঁষে হোবা ঘোষের মিষ্টির দোকান। স্থায়ী কোন দোকান নয়, ফুটপাতের খাবার দোকানগুলো যেমন হয়। আহামরী কোন সাজসজ্জাও নেই। খুবই সাধারণ ছাউনির নিচে একটি বেঞ্চে খদ্দেরের বসার ব্যবস্থা। এই সাদামাটা টং দোকানেই দিনজুড়ে থাকে কাস্টমারদের ভিড়। শুধুই মিষ্টি আর সাথে পাউরুটি বিক্রি করেন হোবা ঘোষ।

সাধারণ হলেও দোকানটির সাথে জড়িয়ে রয়েছে ৯৬ বছরের ঐতিহ্য। ১৯২৪ সাল থেকে এখনো খদ্দেরের চাহিদা মিটিয়ে আসছে এই মিষ্টির দোকান। মিষ্টি ও ঝোল দিয়ে হোবা ঘোষের নিজস্ব কায়দায় কাটা পাউরুটির স্বাদ নিতে দুর-দুরান্ত থেকে অনেকেই ছুটে আসেন।

হোবা ঘোষ জানান, তিন পুরুষ ধরে এই দোকানে মিষ্টির ব্যবসা করছেন তারা। দাদা প্রেমলাল ঘোষের হাতেই ১৯২৪ সালে দোকানটির প্রতিষ্ঠা। এরপর বাবা লাড্ডু ঘোষের হাত ঘুরে ১৯৫৯ সালে দোকানটির ভার নিজের কাঁধে তুলে নেন হোবা ঘোষ। এখন তার সাথে যুক্ত হয়েছেন দুই ছেলে বিমল কুমার ঘোষ ও অমল কুমার ঘোষ।

আর মাত্র ৪ বছর পর শতবর্ষ পূরণ করবে বংশপরাম্পরায় চলে আসা ব্যবসাটি। এখনো সমান জনপ্রিয় হোবা ঘোষের মিষ্টি। রাজশাহী কোর্ট এলাকা, সমস্ত সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও সেখানে কাজের জন্য আসা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের পছন্দের দোকান এটি। ৯৬ বছরেও জনপ্রিয়তায় ঘাটতি পড়েনি।
কোর্ট এলাকার প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আপ্যায়নে থাকে হোবা ঘোষের মিষ্টি। এলাকাবাসীর পছন্দের শীর্ষে তার মিষ্টি। বিভিন্ন সামাজিক, পারিবারিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অতিথিদের মিষ্টিমুখ করাতে এলাকাবাসী ভরসা রাখেন তার মিষ্টির উপর।

দোকানটি এক সময় কোর্ট চত্ত্বরের ভেতরে ছিল। হোবা ঘোষ জানান, অতীতে রমরমা ব্যবসা ছিল তার। পুরো কোর্ট এলাকায় তেমন কোন খাবারের দোকান ছিল না। কোর্ট, জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পুলিশ সুপার কার্যালয়সহ বিভিন্ন কাজে যারা ঐ এলাকায় আসতেন, সবাই একবারের জন্য হলেও হোবা ঘোষের মিষ্টির স্বাদ নিতে ঢুঁ মারতেন দোকানটিতে।

বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৪ থেকে ৫ পাতিল মিষ্টি বিক্রি করেন হোবা ঘোষ। প্রতি পাতিলে মিষ্টি থাকে ১৪ থেকে ১৫ কেজি। প্রতি কেজি মিষ্টির দাম ধরেন ১৪০ টাকা। আর খুচরাভাবে ১টি মিষ্টি ও পাউরুটির দাম রাখেন ১৫ টাকা।

হোবা ঘোষ জানান, অতীতে এর চেয়েও ঢের বেশি মিষ্টি বিক্রি করতেন তিনি। দোকানের সামনে মাছির মত ভিড় লেগে থাকতো কাস্টমারদের। তিনি বলেন, এক সময় বেচাকেনা অনেক বেশি হতো। এই এলাকায় তেমন খাবারের দোকান ছিল না। সবাই আসতো আমার দোকানে। কলার পাতায় মিষ্টি বেচতাম। প্রতিদিন ২০ পাতিলের মত মিষ্টি বিক্রি হতো।

হোবা ঘোষের মিষ্টি খেয়ে প্রশংসা করেন ক্রেতা নাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, অসাধারণ স্বাদ হোবা ঘোষের মিষ্টির। নিজস্ব কায়দায় পাউরুটি কেটে সেটার উপর মিষ্টির ঝোল দিয়ে সার্ভ করেন; যা খেতে দারুণ লাগে।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ দৈনিক সানশাইন