‘আলকায়দার সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ’

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক উগ্রপন্থী সংগঠন আল কায়দার সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। আর্ন্তজাতিক চরমপন্থিদের এই সংগঠনটির নেতা আয়মান আল জাওয়াহিরি দলের শীর্ষ নেতাদের ইতোমধ্যে কাঁটছাট করেছেন। দলটি এখন আবেদন জাগানোর পরিবর্তে আনুগত্যের জোরে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। আর এ সবই ঘটেছে মধ্যপ্রাচ্যে আলকায়েদার সাবেক সহযোগী ইসলামিক স্টেটের উত্থানের পর।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানকে দেয়া সাক্ষাৎকারটি দলটির দুই শীর্ষ নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন। এদের মধ্যে একজন হচ্ছেন জর্ডানের ধর্মগুরু আবু কাতাদা। সন্ত্রাসবাদে জড়িত অভিযোগে ইংল্যান্ডে ১০ বছর কারাভোগ করা কাতাদাকে ২০১৩ সালে জর্ডানে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ব্রিটিশ সরকারের মতে কাতাদা হচ্ছেন ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যক্তিত্ব’। সাক্ষাৎকার দেয়া অপরজন হচ্ছেন আল-কায়দার জীবিত থাকা সবচেয়ে প্রভাবশালী জিহাদী ভাবাদর্শী পন্ডিত। তিনি জাওয়াহিরর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে সুপরিচিত।

আবু কাতাদা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সাবেক অঙ্গসংগঠনটির সঙ্গে লড়াইয়ে দখল করা অঞ্চল হাতছাড়া ও সম্মান হারানোর পর আলকায়দার নিয়োগ ও অর্থের জোগান বন্ধ হয়ে গেছে। আলকায়দা ও আইএসের মধ্যে চলমান যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপি চলমান জিহাদি মুভমেন্টে গঠনাত্মকে যে পরিবর্তন হচ্ছে তার নাগাল পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

মাকদিসি তার বন্ধু ও আলকায়দা প্রধান জাওয়াহিরির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলেন, ‘ সে কেবল কেবল আনুগত্যের ওপর ভিত্তি করে একা দল পরিচালনা করছে। দলের কোন সাংগঠনিক ভিত্তি নেই, আছে শুধু যোগাযোগের কিছু মাধ্যম আর আনুগত্য।’

মাকদিসির বক্তব্য সমর্থণ করে আইএসের কঠোর সমালোচক বলে পরিচিত কাতাদা বলেন, জাওয়াহিরি এখন বিচ্ছিন্ন এবং তিনি স্বীকার করেন আলকায়েদার বিরুদ্ধে মূল যুদ্ধ ও প্রোপাগান্ডায় আইএস বিজয়ী হয়েছে।

গত বছর আইএসকে দলীয় প্রধান জাওয়াহিরির নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে আল-কায়দা থেকে বহিস্কার করা হয়। এরপর ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ন অঞ্চল নিজেদের দখলে নেয়ার পাশাপাশি নিজেদের সাবেক মাতৃ সংগঠন আলকায়েদার সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে। ওই সব লড়াইয়ে আইএসই বিজয়ী হয়। এছাড়া চলতি বছর বিশ্বব্যাপি নিজেদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃতির ঘোষণা দেয়ার পর আফ্রিকার চরমপন্থি সংগঠন আল-শাবাব আইএসের আনুগত্য স্বীকার করেছে। আফগানিস্তানের তালেবান যোদ্ধারা সম্প্রতি আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছে। আইএসের দাবি তালেবানরা যদি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে চায় তাহলে তাদের অবশ্যই আইএসের আনুগত্য স্বীকার করতে হবে। আইএসের মুখপাত্র ইংরেজী ভাষায় প্রকাশিত সাময়িকী ‘দাবিক’ এ দলটির নেতার স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, যেসব এলাকায় আইএস তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেখানে অন্যকোন জিহাদী সংগঠণের অস্তিত্ব মেনে নেয়া হবে না।