১৩ অগাস্ট বার কাউন্সিলের নির্বাচন

জাতীয়

আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক ও তদারক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচনের জন্য ১৩ অগাস্ট দিন ঠিক করে দিয়ে তার এক মাস আগে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে প্রকাশ করতে বলেছে আপিল বিভাগ। বার কাউন্সিল ও তিন প্রার্থীর আবেদনের শুনানি করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেয়।

আদেশে বলা হয়, বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান (অ্যাটর্নি জেনারেল) ও কাউন্সিলের সচিকে ভোটার তালিকা পর্যালোচনা করে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে তা প্রকাশ করতে হবে। আর ভোট হবে ১৩ অগাস্ট। নির্বাচন হওয়ার আগ পর্যন্ত বর্তমান কমিটিই কাজ চালিয়ে যাবে বলে কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন জানান।

গত ২৫ মার্চ বার কাউন্সিল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়, যাতে ভোটের দিন রাখা হয়েছিল ২০ মে। এরপর ৯ এপ্রিল কাউন্সিল নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করে, যাতে ভোটার সংখ্যা দেখানো হয় ৪৮ হাজার ৪৬৫ জন। তবে ওই তালিকায় ‘অস্পষ্টতা ও একই ধরনের নাম একাধিকবার’ থাকার কথা জানিয়ে কাউন্সিলের পাঁচ নির্বাচিত সদস্য এবং ১০১ জন আইনজীবী আলাদাভাবে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সচিবকে চিঠি দেন। চিঠিতে তারা তালিকা ঠিক করতে বলেন। এরপর ১২ মে তলবি সভা করে ভোটের তারিখ পিছিয়ে ২৭ মে নতুন তারিখ রাখা হয়।

এরপর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ গত ১৭ মে এ নির্বাচনের তফসিল, ভোটার তালিকা এবং ২০০৩ সালের সংশোধিত বার কাউন্সিল আইনের ৩ নম্বর ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে দুটি রিট আবেদন করেন। এর ওপর প্রাথমিক শুনানি করে হাই কোর্ট নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করে দেয়। ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পক্ষে সচিব এবং তিন প্রার্থী এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার এম বদরুদ্দোজা চেম্বার আদালতে গেলে বিচারপতি তা শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

এ ছাড়া বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন আইনজীবীদের মোর্চা সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ থেকে সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও বার কাউন্সিলের বর্তমান কমিটির দুই জন সদস্য (সৈয়দ রেজাউর রহমান ও এইচ আর জাহিদ আনোয়ার) ভোটার তালিকা ত্রুটিমুক্ত করে নির্বাচন চেয়ে আলাদা আবেদন করেন।

২৪ মে আপিল বিভাগে এসব আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ আদালত ভোটার তারিখ ঠিক করে দেয়। সেই সঙ্গে হাই কোর্টের দেওয়া রুল আট সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেছে আপিল বিভাগ।