রাজশাহী গড়ার শপথ নিলেন লিটন

জাতীয়

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন শপথগ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে শপথগ্রহন করেছেন সিলেটের মেয়র আরিফুল ইসলাম। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে এ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মেয়র লিটনকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

এর পর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৩০ জন সাধারণ ও ১০ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলররা শপথগ্রহন করেন। তাদের শপথবাক্য পাঠ করার স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জি. মোশাররফ হোসেন। একই সঙ্গে মন্ত্রী শপথবাক্য পাঠ করান সিলেটের কাউন্সিলরদের।
শপথগ্রহন অনুষ্ঠানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, জনপ্রতিনিধিরা যে দলেরই হোক সব ধরনের সুযোগ সুবিধা পাবেন। কিন্তু দুর্নীতি-অনিয়ম হলে যে দলেরই হন না কেন, রেহাই পাবেন না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারাই ক্ষমতায় আসুক দেশের উন্নয়ন যেন থেমে না যায়। বাংলাদেশ যেন পিছিয়ে না পড়ে।

মেয়র-কাউন্সিলরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণ অনেক আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আপনাদের ভোট দিয়েছে। তাদের আশা পূরণে আপনাদের কাজ করতে হবে। আগামী ডিসেম্বরে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নতুন সরকার গঠন করবে।
শেখ হাসিনা বলেন, যেই সরকার গঠন করুক না কেন তারা নিজেদের সম্পদশালী না করে যেন জনগণকে সম্পদশালী করে। তাহলে দেশের উন্নয়ন হবে, দেশ এগিয়ে যাবে। জনগণ যেন সম্পদশালী হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে আপনাদের কাজ করে যেতে হবে।

স্থানীয় সরকার সচিব ড. জাফর আহমেদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শপথগ্রহন অনুষ্ঠানে রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ও ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজশাহী-১ আসনের সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী-৪ আসনের এমপি এনামুল হকসহ রাজশাহী আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও মেয়র লিটনের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শপথগ্রহন শেষে বের হয়ে সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন লিটন।

গত ৩০ জুলাই রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে রাজশাহী সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন নৌকা প্রতীকে এক লাখ ৬৬ হাজার ৩৯৪ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন।
শপথ নেয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। বুধবার দুপুরে রাজশাহী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বঙ্গবন্ধুর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দেয়া খায়ের করেন মেয়র লিটন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ আক্তার জাহান, মেয়রপত্নী ও নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহীন আক্তার রেণী, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মীর ইকবাল, মাহফুজুর রহমান লোটন, শফিকুর রহমান বাদশা, শাহাদত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলাম বেন্টু, উপ-প্রচার সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ লেমন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, মহানগর সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জেডু সরকার, নগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি কুমার ঘোষ প্রমূখ।
এদিকে, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সামনে রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। আর এই চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে বুধবার রাসিকের মেয়র হিসেবে দ্বিতীয় বারেরমত শপথ নেন।

শপথগ্রহন শেষে বের হয়ে এসে খায়রুজ্জামান লিটন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি যখন শপথগ্রহন করলাম তখন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের দেনা ১০১ কোটি টাকা। গত পাঁচ বছর লুটপাটের কারণে এই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে রাসিক। কিন্তু পাঁচ বছর আগে আমি যখন রাসিকের দায়িত্ব ছাড়ি তখন উদ্বৃত্ত রেখে এসেছিলাম ১৭ কোটি টাকা।’
মেয়র লিটন বলেন, ১০০ দিনের মধ্যে নগরকে ক্লিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলা, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা এবং নির্বাচনে আমার দেয়া ১৪ দফা প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন; আমার সামনে এই তিনটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আশি আশা করছি নগরবাসীর সহযোগিতায় কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়ে নিরলসভাবে পরিশ্রম করে এ তিনটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভাব হবে।

এবার নগরবাসীকে ১৪টি প্রতিশ্রুতির দিয়ে রাসিক মেয়র নির্বাচিত হন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খায়রুজ্জামান লিটন। সাবেক মেয়র ও নগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন লিটন।
এর আগে ২০০৮ সালে মেয়র নির্বাচিত হন লিটন। সেইবার ব্যাপক উন্নয়ন করে নগরীর চেহারা পাল্টে দেন। তবে নানান কারণে ২০১৩ সালের নির্বাচনে বুলবুুলের কাছে হেরে যান তিনি। এবার মনে করা হয়, উন্নয়ন ব্যর্থতা ও নগর ভবনে লুটপাটের কারণে এবার ভরাডুবি হয়েছে বুলবুলের। আর রাজশাহী বদলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনরায় পেয়েছেন খায়রুজ্জামান লিটন।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ ডেইলি সানশাইন