পুলিশ কনস্টেবল পদে ১০ হাজার নিয়োগ

রাজশাহীর জব'স

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে নিয়োগের লক্ষ্যে ৮৫০০ জন পুরুষ ও ১৫০০ জন নারীসহ মোট ১০ হাজার জন প্রার্থী নিয়োগ দেয়া ও বাছাই করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষাসহ লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত তারিখ ও সময়ে তাদের নিজ জেলায় পুলিশ লাইনসে (যে জেলার স্থায়ী বাসিন্দা) প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

প্রার্থীর যোগ্যতা : বয়স : সাধারণ/অন্যান্য কোটার প্রার্থীর ক্ষেত্রে
১-১২-২০১৫ তারিখে বয়স হবে ১৮ থেকে ২০ বছর (৩০-১১-১৯৯৭ থেকে ৩০-১১-১৯৯৫ তারিখের মধ্যে জন্ম); মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে ১-১২-২০১৫ তারিখে ১৮ থেকে ৩২ বছর হতে হবে (৩০-১১-১৯৯৭ থেকে ৩০-১১-১৯৮৩ তারিখের মধ্যে জন্ম)। তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সন্তানের ক্ষেত্রে ১-১২-২০১৫ তারিখে ১৮ থেকে ২০ বছর হতে হবে। প্রার্থীদের এসএসসি/সমমানের সার্টিফিকেটে উল্লিখিত জন্মতারিখই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা : এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় পাস (কমপক্ষে জিপিএ ২.৫/সমমান পেতে হবে)।
জাতীয়তা : প্রার্থীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে।
বৈবাহিক অবস্থা : অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে (তালাকপ্রাপ্ত নয়)।
শারীরিক মাপ : সাধারণ ও অন্যান্য কোটা (পুরুষ) : উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি বা ১.৬৭৬৪ মিটার এবং বুক স্বাভাবিক অবস্থায় ০.৭৮৭৪ মিটার বা ৩১ ইঞ্চি এবং সম্প্রসারিত অবস্থায় ০.৮০৮২ মিটার বা ৩৩ ইঞ্চি হতে হবে।
মুক্তিযোদ্ধা কোটা (পুরুষ) : শুধু মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি বা ১.৬২ মিটার এবং বুক স্বাভাবিক অবস্থায় ০.৭৬২০ মিটার বা ৩০ ইঞ্চি, এবং সম্প্রসারিত অবস্থায় ০.৭৮৭৪ মিটার বা ৩১ ইঞ্চি হতে হবে। উপজাতীয় কোটা (পুরুষ) : উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি বা ১.৬২ মিটার এবং বুক স্বাভাবিক অবস্থায় ০.৭৮৭৪ মিটার ৩১ ইঞ্চি এবং সম্প্রসারিত অবস্থায় ০.৮০৮২ মিটার বা ৩৩ ইঞ্চি হতে হবে।
নারী প্রার্থী (সব কোটা) : উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ২ ইঞ্চি বা ১.৫৮ মিটার হতে হবে। ওজন : বয়স ও উচ্চতার সাথে ওজন অনুমোদিত পরিমাপের হতে হবে।
শারীরিক মাপ ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণকালে প্রার্থীদের যেসব কাগজপত্র সাথে আনতে হবে : প্রাথমিকভাবে বাছাইকৃত প্রার্থীদের জেলায় পুলিশ সুপার কর্তৃক সরবরাহকৃত আবেদন ফরম পূরণ করে নিচে বর্ণিত কাগজপত্র আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে হবে।
১. শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র/সাময়িক সনদপত্রের মূল কপি।
২. সর্বশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রদত্ত চারিত্রিক সনদপত্রের মূল কপি। ৩. নাগরিকদের সনদপত্রের মূল কপি। ৪. প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি। যদি প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকে সে ক্ষেত্রে প্রার্থীর পিতা/মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি।
৫. সরকারি গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি। ৬. পরীক্ষার ফি বাবদ ১-২২১১-০০০০-২০৩১ নম্বর কোডে ১০০ টাকার ট্রেজারি চালান জমা দেয়ার মূল কপি।
৭. মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান/সন্তানের সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের পিতা/মাতা/পিতামহ/মাতামহের নামে ইস্যুকৃত মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্রের মূল কপি, যা যথাযথভাবে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও প্রতিস্বাক্ষরিত থাকতে হবে।
৮. মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পুত্র-কন্যার পুত্র-কন্যা হলে প্রার্থী যে মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পুত্র-কন্যার ঔরসজাত পুত্র-কন্যা, এই মর্মে ইউনিয়ন পরিষদের (চেয়ারম্যান), সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার মেয়র/ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্রের মূল কপি।
৯. পুলিশ পোষ্য কোটায় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রার্থীর পিতা/মাতার নাম, পদবি (বিপি নম্বরসহ) উল্লেখপূর্বক কর্মরত জেলা/ইউনিটের প্রধান কর্তৃক প্রত্যয়নপত্র। যদি পুলিশ পোষ্য কোটায় কোনো প্রার্থীর পিতা/মাতা অবসর/মৃত্যুবরণ করে থাকেন, তবে এমন প্রার্থীর ক্ষেত্রে পিতা/মাতার সর্বশেষ কর্মস্থলের ইউনিট প্রধান কর্তৃক প্রত্যয়নপত্রের মূল কপি।
১০. আনসার ও ভিডিপি কোটার প্রার্থীদের জন্য ৪২ দিন মেয়াদি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সনদপত্রের মূল কপি।
১১. এতিম কোটায় প্রার্থীদের সরকারি ও সরকারি নিবন্ধনপ্রাপ্ত এতিমখানার প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্র/প্রশংসাপত্রের মূল কপি, যাতে প্রার্থী এতিম ও প্রার্থীর পূর্বকালীন স্থায়ী ঠিকানা ও এতিমখানায় নিবাসের নিবন্ধনকৃত ব্যক্তিগত নম্বরও উল্লেখ থাকতে হবে।
১২. উপজাতীয় কোটার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক/উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক প্রদত্ত সনদপত্রের মূল কপি।
১৩. সরকারি/আধা সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় চাকরিরত প্রার্থীদের অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিসহ পরীক্ষার দিন উপস্থিত হতে হবে।
পরীক্ষা পদ্ধতি : শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষা : প্রার্থীদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত তারিখ, সময় ও স্থানে বিধি মোতাবেক শারীরিক মাপ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার পরবর্তী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রবেশপত্র ইস্যুকরণসহ লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের কেন্দ্রের স্থান নির্ধারণপূর্বক প্রার্থীদের তা অবহিত করবেন। লিখিত, মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষার সময় প্রার্থীদের প্রবেশপত্র অবশ্যই সাথে আনতে হবে।

লিখিত পরীক্ষা : শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নির্ধারিত তারিখে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময়ের ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। ওই পরীক্ষায় ন্যূনতম ৪৫% নম্বরপ্রাপ্ত প্রার্থীরা উত্তীর্ণ বলে বিবেচিত হবেন।
মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা : লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নির্ধারিত তারিখে ২০ নম্বরের মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রেও আলাদাভাবে ৪৫% নম্বরপ্রাপ্ত প্রার্থীরা উত্তীর্ণ বলে বিবেচিত হবেন।
নির্বাচন পদ্ধতি : প্রতি জেলায় নিয়োগযোগ্য প্রকৃত শূন্য পদের বিপরীতে, কোটার বিপরীতে লিখিত, মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হবে।
প্রশিক্ষণ : বাছাই কমিটি কর্তৃক পুনঃবাছাইকালে যোগ্য বিবেচিত প্রার্থীদের নির্ধারিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (পুরুষ/নারী) হিসেবে ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে হবে।

সুযোগ-সুবিধা :
ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (পুরুষ/নারী) প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে প্রশিক্ষণকালীন বিনামূল্যে পোশাক সামগ্রীসহ থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসা সুবিধাপ্রাপ্য হবেন। এ ছাড়া প্রশিক্ষণকালীন প্রতি মাসে ৫০০ টাকা হারে প্রশিক্ষণভাতা প্রাপ্য হবেন।
নিয়োগ ও চাকরির সুবিধা : প্রশিক্ষণ শেষে ২০০৯ সালের জাতীয় বেতন স্কেল ১৭তম গ্রেড ৪৫০০/–৯০৯৫/- টাকার বেতন ও বিধি মোতাবেক প্রাপ্য অন্যান্য বেতনভাতাসহ পুলিশবাহিনীতে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেয়া হবে।

প্রার্থী বাছাই : প্রতি জেলার বিপরীতে নিয়োগযোগ্য ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (পুরুষ/নারী) পদে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ লাইনস ময়দানে আগ্রহী প্রার্থীদের বাছাই করা হবে। ওই প্রার্থীদের শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষা নিজ জেলার বিপরীতে বর্ণিত তারিখে সকাল ৯টায় ও ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নির্ধারিত তারিখে সকাল ১০টায় শুরু হবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও সিলেট রেঞ্জের আগ্রহী প্রার্থীদের শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষা ৩ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখ থেকে ও লিখিত পরীক্ষা ৬ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখ এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা ১৩ ডিসেম্বর ২০১৫ থেকে শুরু হবে। বরিশাল রেঞ্জের আগ্রহী প্রার্থীদের শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষা ৫ ডিসেম্বর ২০১৫ ও লিখিত পরীক্ষা ৭ ডিসেম্বর ২০১৫ এবং উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা ১২ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখ থেকে শুরু হবে।