বাঘায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ২০

বাঘা রাজশাহী

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায়-দফায় সংঘর্ষে তিন ‍নারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুন) দুপুরে উপজেলার নবগঠিত চকরাজাপুর ইউনিয়নের চকরাজপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত কয়েকদিন আগে উপজেলার চকরাজাপুর বাজারে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী আজিজুল আজমের কর্মী-সমর্থকরা দল মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবলু দেওয়ানের নৌকা প্রতীক পুড়িয়ে দেয়। এর জের ধরে বাবলু দেওয়ানের ছোট ভাই শাহীন দেওয়ান বাদী হয়ে ৪২ জনের নামে মামলা দায়ের করেন।

সকালে (বৃহস্পতিবার) বাঘা থানা পুলিশ চকরাজাপুর গ্রামে গিয়ে আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালালে বাবলু দেওয়ানের লোকজন বাবু নামে বিদ্রোহী প্রার্থী আজিজুল আজমের এক সমর্থককে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে গেলে দুপুরে বাবলু দেওয়ানের কর্মী-সমর্থকরা চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে সহকারী শিক্ষক গোলাম মোস্তফাকে পিটিয়ে করে আহত করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই উভয় পক্ষের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিমুল আক্তারের নেতৃত্বে বাঘা থানা পুলিশ ফের ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

সংঘর্ষে বাবলু পক্ষের শাহীন, মোহাম্মদ আলী, শেখ আব্দুস সালাম, মিজান, সেলিনা, মিন্টু, গিয়াস, মমতাজ ও  সুমি এবং আজিজুল আজমের পক্ষের ফজলুল হক সিকদার ও আদিল গুরুতর আহত হন। তাদের প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দুইজনকে রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ প্রসঙ্গে বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মাহমুদ বলেন, আগে থেকেই দুই প্রার্থীর বিরোধ চলে আসছিলো। তবে কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আগামী শনিবার (৪ জুন) বাঘার আড়ানী, বাউসা এবং চকরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

খবরঃ বাংলানিউজ