রাজশাহীতে বসন্তের বাজারে গ্রীষ্মের ফল

রাজশাহী

tormuj_sm_540228814

রাজশাহীর বাজারে এবার বসন্তেই এসেছে গ্রীষ্মের রসালো ফল তরমুজ। তাই প্রচণ্ড-রোদ-খরা না থাকলেও উচ্চবিত্তরা অনেকটা শখ করেই ঘরে নিচ্ছেন মৌসুমী এ ফল। দাম বেজায় চড়া। ফলে ভিড় কম তরমুজের দোকানে। কেনার ইচ্ছে থাকলেও দরদাম করেই চলে যাচ্ছেন বেশিরভাগ ক্রেতা।

মহানগরের শালবাগান বাজারে রোববার দুপুরে তরমুজ কেনার সময় সরকারি কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, তীব্র গরম না পড়লেও গ্রীষ্মের এই ফলটি তিনি অনেকটা শখ করেই নিচ্ছেন পরিবারের জন্য। তার ফলের তালিকার মধ্যে পছন্দের শীর্ষে রয়েছে তরমুজ। কিন্তু এবার তরমুজের দাম বেশি হওয়ায় পর্যাপ্ত পরিমাণে কেনা যাচ্ছে না। বিক্রেতারা আকাশ ছোঁয়া দাম হাঁকছেন। দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই না কিনেই ফেরত যাচ্ছেন।

রাজশাহী ফল ভাণ্ডারের বিক্রেতা দুলাল হোসেন জানালেন, বর্তমানে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ। তবে কোথাও কোথাও ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরেও বিক্রি হচ্ছে঳। রাজশাহী অঞ্চলে তরমুজ উৎপাদন হয়। তবে পুরো মৌসুম শুরু না হওয়ায় এখনও বাজারে নামেনি এ অঞ্চলের তরমুজ। ফলে সুনামগঞ্জ, সেন্টমার্টিন ও বরিশালের কুয়াকাটা থেকে এসব তরমুজ আনা হচ্ছে। অবরোধে খরচ বেশি পড়ছে। তবে এখন দাম বেশি পাওয়ায় লাভও বেশি হচ্ছে বলে জানান এই বিক্রেতা।

শালবাগানের অপর ব্যবসায়ী নান্নু মিয়া জানান, পাইকারী হিসাবে সিলেটের সুনামগঞ্জ থেকে সর্বনিম্ন ১২০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৬০০ টাকা মণ দরে আনা হচ্ছে এসব তরমুজ। অর্থাৎ পাইকারী হিসাবে তরমুজ ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি কেনাই পড়ছে। পরে শ্রমিক, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ ধরে খুচরা বাজারে তা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের কাছে একটু বেশি দাম মনে হলেও খুব একটা লাভ করা হচ্ছে না তাদের কাছ থেকে। এ অঞ্চলের তরমুজ বাজারে উঠলে দাম কমে যাবে। তখন ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যেই তরমুজ পাওয়া যাবে বলে জানালেন নান্নু মিয়া।

মহানগরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে সাহেব বাজার, উপশহর নিউমার্কেট, লক্ষ্মীপুর, হড়গ্রাম, শালবাগান ও নওদাপাড়া বাজারেও সীমিত আকারে তরমুজ বিক্রি হতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ফাল্গুন মাসের শেষ থেকে শুরু হবে তরমুজের মৌসুম। তখন দামও থাকবে নাগালের মধ্যে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.