পদ্মায় ফিরলেও মোকামে ফেরেনি রূপালী ইলিশ

রাজশাহী

‘রাতে এপারের জেলেরা ইলিশ শিকারে পদ্মায় নামেন। কিন্তু জাল ফেললেই এখন আর ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ উঠছেনা। তাই শিকারে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর পদ্মায় ইলিশ মিললেও সরবরাহ কমেছে মোকামে। ভোরের আলো ফুটতেই যেসব মাছ মোকামে নামছে সকাল ৮টা বাজতেই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে দাম রয়েছে আগের মেজাজেই’।

শিকারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর পদ্মা পাড়ের ইলিশের হালচাল জানতে চাইলে এমন সমাচারই দেন গোদাগাড়ী রেলবাজার ‘বরেন্দ্র’ মাছের আড়তের স্বত্তাধিকারী জাহাঙ্গীর আলম।

পদ্মা ঘেঁষা রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার এই ছোট্ট বাজারটি হালে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ইলিশের বেচাকেনায়। এই মোকাম থেকেই বর্তমানে পদ্মার ইলিশ যাচ্ছে রাজধানী ঢাকায়। প্রতিদিন মোকামের আটটি আড়ৎ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার ইলিশের কারবার করছেন স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা।

গত ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত প্রজনন সময় ধরা হয়েছিল মাছের রাজা ইলিশের। এ সময় মা ইলিশ রক্ষায় রাজশাহীসহ দেশের ২৭টি জেলার নদ-নদী এবং উপকূলে ইলিশ শিকারে ছিল সরকারি নিষেধাজ্ঞা। সেই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ৩ নভেম্বর থেকে আবারও বাজারে ফিরেছে ইলিশ।

রেলবাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা শেষে সেখানে আবারও ইলিশ বেচাকেনা শুরু হয়েছে। তবে মোকামে এখন আগের চেয়ে ইলিশ মাছের সরবরাহ কম। এজন্য দামও কিছুটা চড়া।

কয়েক বছরের তুলনায় নদ-নদীতে পর্যাপ্ত মাছ পাওয়ার আশা করা হচ্ছিল এবার সুলভেই ফিরবে ইলিশ। কিন্তু ২২ দিনের বিরতির পর সে আশা পূরণ হয়নি। গরিবের ইলিশ ভোজনের সাধ বিলাসেই পরিণত হয়েছে। পদ্মাগর্ভ থেকে জেলের জাল, আড়তদারের পাল্লা আর বাজারের ঝুড়ি ঘুরে রাজকীয় এই মাছ উঠছে সামর্থ্যবানদের পাতেই।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার উৎপাদনে বেড়েছে ঠিকই। কিন্তু তার তুলনায় চাহিদাও বেড়েছে দ্বিগুণ। এর উপর মজুদ করার প্রবণতায় তেমন দাম কমছে না ইলিশের।

আড়তদারদের ভাষ্যমতে, গত বুধবার (০২ নভেম্বর) রাত থেকেই পদ্মা-মেঘনায় নেমেছেন জেলেরা। ইলিশ ধরাও শুরু হয়েছে। তবে প্রচুর ইলিশ বাজারে আসতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।

এদিকে, রেলবাজারে আসা উপজেলার মহিষালবাড়ি গ্রামের কফিল উদ্দিন বলেন, তাদের কাছে ইলিশ হচ্ছে রাজকীয় মাছ। আলাদা স্বাদ ও সুঘ্রাণের কারণে ইলিশের কদর ও সুখ্যাতি থাকলেও এর স্বাদ নেওয়াই দায়। আগে এমন সময়ে পদ্মা পাড়ের মানুষ অতিথি আপ্যায়নে ইলিশের আয়োজন করতো। এখন তাও আর দেখা যায়না। কয়েক যুগ পর গত বছর থেকে রাজশাহীর পদ্মায় দেখা মিলছে রূপালি ইলিশের। তাই সামান্য হলেও জিভে স্বাদ চেখে দেখা যাচ্ছে। তবে যেই হারে দাম কমার আশা করছিলেন সে হারে দাম কমেনি। ফলে ইলিশ এখনও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়েছে।

রেলবাজারের ‘পদ্মা’ মাছের আড়তের স্বত্তাধিকারী আবদুল বাশেদ ও মাসুম আলী বলেন, ৩ নভেম্বর থেকে এই মোকামে আবারও ইলিশের বেচাকেনা শুরু হয়েছে। তবে ইলিশের সরবরাহ এখন কম। এ কারণে নিষেধাজ্ঞার আগে যে দামে ইলিশ পাওয়া গেছে এখন সেই দামে আর পাওয়া যাচ্ছে না। এখন বাজারে ৫শ’ থেকে ৬শ’ গ্রাম ওজনের প্রতিটি ইলিশ ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা আগে ছিল সাড়ে ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা। এছাড়া ৭শ’ থেকে ৮শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ সাড়ে ৬শ’ থেকে ৯শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছিল সাড়ে ৫শ’ থেকে ৮শ’ টাকায়। এছাড়া ১ কেজির ইলিশ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ কম থাকায় দাম আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।

তবে রেলবাজারের ‘মহানন্দা’ মাছের আড়তের রাজিব হোসেন বলেন, তাদের মধ্যে কতিপয় ব্যবসায়ী নতুন ইলিশ নিয়ে কৌশলী হয়ে উঠেছেন। তারা ক’দিন থেকে যে ইলিশ বিক্রি করছেন তার বেশিরভাগই হিমাগারে সংরক্ষণ ছিল। বাড়তি মুনাফার লোভে তাজা ইলিশের নামে জমিয়ে রাখা ইলিশগুলো বিক্রি করছেন। আর নতুন ইলিশগুলো আগামী বৈশাখের জন্য সংরক্ষণ করছে। ইলিশের দাম না কমার অনেক কারণের মধ্যে এটিও অন্যতম একটি বলে দাবি করেন এ ব্যবসায়ী।

খবরঃ বাংলানিউজ

1 thought on “পদ্মায় ফিরলেও মোকামে ফেরেনি রূপালী ইলিশ

Comments are closed.