ধসে পড়ার আশংকায় ঐতিহ্যবাহী কুসুম্বা মসজিদ

নওগাঁ রাজশাহী

kusumba

বাংলাদেশের পাঁচ টাকার নোটে মুদ্রিত ছবিটি নওগাঁর ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদটি সংস্কারের অভাবে ধসে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন মসজিদের মুসল্লি ও দর্শনার্থীরা।

১৮৯৮ সালের এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ৪শ’ ৬০ বছরের প্রাচীন পাথরের নির্মিত ৬ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির একটি গম্বুজ ধসে পড়ে। ১৯৬৪ সালে সেই গম্বুজটি পুনরায় নির্মাণ করা হলেও ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ মসজিদটির আর কোনো সংস্কার করা হয়নি। ফলে গম্বুজের গায়ে ফাটল দেখা দিয়েছে সৃষ্টি হয়েছে ছত্রাকের। ঝরে পড়ছে খিলান ও গম্বুজের ইট-সুরকি। প্রায় ৫০ বছর আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কুসুম্বা মসজিদ অধিগ্রহণ করে। এতে স্থানীয়ভাবে মসজিদের সব ধরনের সংস্কার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অভিযোগ আছে, বার বার মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর পরিদর্শন করলেও সংস্কারে কোনো জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

কুসুম্বা মসজিদের মোয়াজ্জিন মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দিন যতই যাচ্ছে মসজিদের গম্বুজগুলো ততই হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মসজিদে প্রতিদিন দর্শনার্থী আসে। অনেকেই মসজিদের ভিতরে নামাজ আদায় করেন। ক্ষতিগ্রস্ত গম্বুজগুলো ধসে যে কোনো মুহূর্তে জান-মালসহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে এই প্রাচীন নিদর্শনটি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে কলেজ পড়ুয়া নাসিম, তারেক, রুবেল ও রাহুল কুসুম্বা মসজিদ দেখতে এসেছেন। মসজিদের ছবি তোলার এক ফাঁকে তারা জানালেন, কুসুম্বা মসজিদের অনেক নাম শুনেছি। ৫ টাকার নোটে ছবি দেখে এসেছি। কিন্তু ভিতরের গম্বুজগুলোর অবস্থা দেখে কষ্ট হচ্ছে।

নওগাঁর মান্দা উপজেলার প্রাচীন ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদটি এখনই জরুরিভাবে সংস্কার করার দাবি জানিয়েছেন মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি এলাকাবাসী ও দর্শনার্থীরা। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে রাজশাহীর আঞ্চলিক পরিচালক বদরুল আলম জানান, গত অর্থবছরেও কুসুম্বা মসজিদটি সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বরাদ্দ আসেনি। এবারও অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কার করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.