রাবির চারুকলা রেলক্রসিং ঝুঁকি নিয়ে নিত্য চলাচল

ক্যাম্পাসের খবর রাজশাহী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অভ্যন্তরে চারুকলা রেলগেটে গেটম্যান ও ব্যারিকেড না থাকায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এছাড়া হরহামেশা দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজন। এদিকে এসব দূর্ঘটনা রোধে উদ্যোগ নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের।

জানা যায়, বিগত ছয় বছরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ক্রসিংগুলোতে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী তিন ছাত্রীসহ ৫ জনের। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে চারটি রেল ক্রসিং রয়েছে। এর একটি হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ও কৃষি অনুষদের প্রবেশদ্বার। আর এ ক্রসিং দিয়ে দুটি অনুষদের প্রায় দুই হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিয়মিত যাতায়াত করে।

এছাড়া গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় গোরস্থান সংলগ্ন ক্রসিংয়ে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী ধুমকেতু এক্সপ্রেসের ধাক্কায় রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের গাড়ি ভেঙে যায়। গুরুতর আহত হন গাড়ির চালক আজহারুল ইসলাম। সবশেষ গত বছরের ২৮ আগস্ট ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সান্তনা বসাক। এর আগে ২০১৫ সালের বছরের ১৪ জুলাই চারুকলা গেট এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের মেধাবী ছাত্রী ইসরাত আরেফিনের। একই বছরের ১৩ মে মেহেরচন্ডী এলাকার ক্রসিংয়ে কাটা পড়ে মারা যায় সোহেল রানা নামের এক যুবক। ২০১৩ সালের ৩০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের পাশে শামীমা আক্তার নামে এক গৃহবধূ ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান। এছাড়া ২০১০ সালের ২৪ জানুয়ারি বধ্যভূমি এলাকার ক্রসিংয়ে শামসাদ পারভীন আনু নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। অরক্ষিত এই রেলক্রসিংয়ে কোন ব্যারিকেড কিংবা গেটম্যান না থাকায় মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েই চলাফেরা করতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ফখরুদ্দিন মামুন বলেন, এই রেলগেট দিয়ে শুধু চারুকলা অনুষদ কিংবা কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীরাই চলাফেরা করে না। এখান দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দিয়ে বুদপাড়া মেহেরচন্ডী এলাকার হাজার হাজার মানুষ সবসময় যাতায়াত করে। আমরা অনেকবার আমাদের শিক্ষকদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনকে এখানে ব্যারিকেডের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অবহিত করেছি। কিন্তু তারপরও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আর এখানে কোন সুরক্ষিত ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা ঘটছে। তারপরও আমরা ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করছি।

আরেক শিক্ষার্থী হুমাইরা বিনতে হাই ইরা বলেন, আমরা এখানে কোন অনিরাপদ বোধ করি। সবসময় রিস্ক নিয়ে চলাফেরা করতে হয় আমাদের। এখানে যদি ক্রসিংয়ের দায়িত্বে গার্ডম্যানের ব্যবস্থা করা হয়ে তবে আমরা নিরাপদভাবে যাতায়াত করতে পারবো।

চারুকলা থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবনগুলোতে নিয়মিত রিকশা চালান মজিবর রহমান। তিনি বলেন, রেলক্রসিং খোলামেলা থাকায় বুঝতে পারি না যে ট্রেন আসছে। বেশিরভাগ সময়ই যাত্রী নিয়ে দ্রুত চলাফেরা করতে হয়। এতে করে দূর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এখানে গেটম্যান ও ব্যবস্থা থাকলে ভালো হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক টি এম এম নুরুল মোদ্দাসের চৌধুরী বলেন, রেললাইনের আশপাশে যে গাছগুলো ছিলো সেগুলো দূর্ঘটনা এড়াতে হয়তো কেটে ফেলা হয়েছে। তবু ব্যাড়িকেড ও গার্ডের ব্যবস্থা প্রয়োজন।

স্থনীয় একজন কাশেম ফকির বলেন, এখানে অনেকদিন ধরে বসবাস করে আসছি। এখান দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করলেও কোন গার্ডের ব্যবস্থা নেই। মাঝে মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষদের দূর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। কয়েকবার ব্যক্তি উদ্যোগে একজন গার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো কিন্তু নিয়মিত গার্ডকে টাকা-পয়সা না দেয়ায় তিনি থাকেননি। কিন্তু আমরা চাই অতিসত্তর এখানে গার্ডম্যান ও ব্যারিকেডের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা মো. মিজানুর রহমান বলেন, রেলক্রসিংয়ের ওই জায়গাটা আমাদের না। তারপরও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োজিত গার্ড ও পুলিশ যতটুকু পারে দেখভাল করে। তবে নিয়ম অনুযায়ী এটা দেখার দায়িত্ব রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের। আর কোন গার্ড ওখানে দেয়া যায় কিনা সে বিষয়ে আমি আলোচনা করবো।

এদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের (পশ্চিমাঞ্চল) মহাব্যবস্থাপক মো. খায়রুল আলম বলছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে যেসব রেলক্রসিং রয়েছে, সেখানে রেলওয়ের নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী রেলওয়ের ওপর দিয়ে ক্রসিং করতে হলে অন্তত ৪ মাইল দুরত্বে সেগুলো রাখতে হবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সে নিয়ম না মেনে রেলক্রসিং চালু করেছে। এক্ষেত্রে রেলগেট বা ব্যারিকেড দেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজ অর্থায়নে করতে হবে।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন

1 thought on “রাবির চারুকলা রেলক্রসিং ঝুঁকি নিয়ে নিত্য চলাচল

Comments are closed.