বিপদসীমার কাছাকাছি পদ্মা

রাজশাহী

উজানে একটানা বৃষ্টিপাত ও উত্তরদিক থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের কারণে রাজশাহীতে পদ্মানদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। পদ্মাপাড়ের মানুষের হাতের নাগালেই এখন পানি। হাত বাড়ালেই পদ্মার পানি। অনেকের বাড়িতে প্রবেশ করেছে পানি। নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নদীর চরাঞ্চল ও পদ্মাপাড়ে ভাঙ্গন চলছে। আতঙ্কে রয়েছেন চরাঞ্চল ও পদ্মাপাড়ের মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজশাহীর পানি বিজ্ঞান শাখা জানায়, গতকাল শুক্রবার সন্ধা ৬ টায় রাজশাহীতে পদ্মানদী ১৭ দশমিক ৩৩ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। রাজশাহীতে পদ্মার বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার, যা এখনো ১ দশমিক ১৭ মিটার বা ১১৭ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১৩ সেন্টিমিটার।

পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ঘুম হারাম হয়ে গেছে রাজশাহীর পদ্মাপাড়ের মানুষের। প্রতিটা দিন, প্রতিটা মুহূর্ত তাদের কাটছে আবাস হারানোর আতঙ্কে। ভাঙনরোধে নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় বালুর বস্তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে, গত ১৫ বছরে রাজশাহীতে পদ্মানদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে মাত্র দুই বার। এর মধ্যে ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত টানা ৯ বছর রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। কেবল ২০০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে পদ্মার সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ১৮ দশমিক ৮৫ মিটার। এর পর ২০১৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে পদ্মা বিপদসীমা অতিক্রম করে। ওই বছর পদ্মার সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ১৮ দশমিক ৭০ মিটার। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট রাজশাহীতে পদ্মার পানির প্রবাহ উঠেছিল সর্বোচ্চ ১৮ দশমিক ৪৬ মিটার।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, পুলিশ লাইনের সামনে গতবছরের ৰতিগ্রস্ত ১৫১ মিটার নদীর পাড় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যায়ে জিও ব্যাগ ও সি.সি. বৱক দিয়ে মেরামত করা হয়েছে। বর্তমানে ২৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সোনাইকান্দি থেকে বুলনপুর পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার পদ্মার বামতীর প্রতিরৰা কাজ চলছে। এছাড়া টি-গ্রোয়েন রৰায় আপদকালীন সময়ের জন্য বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও সি.সি. বৱক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

খবরঃ দৈনিক সোনালী সংবাদ