বিনোদনের সেরা ঠিকানা পদ্মার পাড়!

নির্বাচিত খবর পর্যটন রাজশাহী রাজশাহীর পরিচিতি

জৈষ্ঠ্যের আম-কাঁঠাল পাকা ভ্যাপসা গরম। তপ্ত ও গুমোট আবহাওয়া। জনজীবনে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। মানুষ ছাড়াও প্রাণিকূলের মধ্যে তীব্র গরমের এ হাঁসফাঁস।

এমন গরমে একটু স্বস্তি নিতে মৃদু-মন্দ হাওয়া শান্তির পরশ পেতে রাজশাহীবাসী ছুটে যান পদ্মা নদীর পাড়ে। স্থানীয়রা ছাড়াও এ সারিতে যোগ দিয়েছেন রাজশাহীতে ঘুরতে আসা পর্যটকরাও। প্রকৃতি প্রেমিক এসব মানুষ পদ্মা নদীর সৌন্দর্যে অভিভূত হচ্ছেন।

বিশেষ করে পড়ন্ত বিকেলে লোকারণ্য হয়ে যায় পদ্মার পাড়, যা আরও বাড়ে সন্ধ্যার পর। বিশুদ্ধ বাতাস আর নদীর সৌন্দর্যের টানে ছুটে আসেন হাজারও মানুষ। তাদের কেউ নদীর পাড়ে বসে আড্ডা দেন, কেউ বা মগ্ন থাকেন প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগে, আবার কেউ কেউ পদ্মার বুকে বেড়ানোর জন্য নৌকায় ওঠে পড়েন।

দর্শনার্থীদের ভিড়ে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত জমজমাট থাকে নগরীর বুলনপুর থেকে বড়কুঠি ও পঞ্চবটি হয়ে সাতবাড়িয়ার দীর্ঘ প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকা।

বৃহস্পতিবার (৩১ মে) বিকেলে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মরমী শিল্পী আব্দুল আলীমের সর্বনাশা পদ্মা নদীর সেই মাতাল ঢেউ না থাকলেও আছে ডিঙি নৌকা, ছোট ছোট ট্রালার। আছে মাঝি।  সকাল, দুপুর , সন্ধ্যা নেই সব সময় মুখরিত পদ্মার পাড়।

পদ্মারপাড় ঘুরে দেখা যায়, পর্যটক ও মানুষের জন্য পদ্মার ধার ঘেঁষে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। উন্নতমানের এ সড়ক দিয়ে সহজেই হেঁটে পদ্মার অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে পারছেন আগতরা।

আগতদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের একটি টহল দলকেও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। যে কারণে অনেকে নদীর পাড়ে বসে শান্ত পদ্মার নির্মল বাতাস উপভোগ করতে পারছেন নির্ভয়ে।

পৃথিবীর সবচেয়ে কম বায়ুদূষণমুক্ত শহর রাজশাহীর পদ্মাপাড়ের শীতল বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে যাচ্ছে দর্শনার্থীদের। টি-বাঁধ, লালন শাহ মুক্তমঞ্চের সামনের কাঁশ বন ও বড় কুটি পদ্মা পাড়ে সবচেয়ে বেশি লোক সমাগম দেখা যায়। যেখানে রয়েছে ফ্রি ওয়াইফাই। মুক্তমঞ্চের সামেনের চরে রাখাল গরু চড়াচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, যে কোন উৎসবের ছুটিতে পদ্মা পাড়ে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। বছরের অন্য সময়গুলোতে এখানে মানুষের বেশ উপস্থিতি থাকে। ওয়াকওয়ের পথে হেঁটে হেঁটে অনেকে নেমে যান বালুচরে। প্রতিদিনই মানুষ এখানে কমবেশি এলেও ছুটির দিনগুলোতে থাকে উপচে পড়া ভিড়। রমজান বলে এখন কম লোক আসেন।
টি-বাঁধ ঘুরতে আসা বিমা কর্মকর্তা সাইদুল বারী বলেন, নির্মল বিনোদনের জায়গা পদ্মার পাড়। এখানকার মতো এমন বিশুদ্ধ বাতাস আর কোথাও নেই। তাই তো রোজায় প্রচণ্ড গরমে এখানে মাঝে মধ্যে ঘুরতে আসি।

নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী বায়োজিদ বোস্তামী সাদ  বলেন, প্রত্যেক দিন পদ্মাপাড়ে সবচেয়ে বেশি যারা ঘুরতে আসেন তাদের অধিকাংশ স্কুল এবং কলেজ শিক্ষার্থী। নদীর ধারে অনেকগুলো ছাত্রাবাস রয়েছে। সেখানে যারা থাকেন তাদের প্রায় সবাই নিয়মিত পদ্মাপাড়ে আসেন।

‘এখানকার সবচেয়ে কাছের এবেলা ছাত্রবাস, সেখানকার ছাত্ররা প্রায় প্রতিদিনই সন্ধ্যা নামলে নদীর পাড়ে ঢল নামায়। তাছাড়া পুরো রাজশাহীর মানুষের কাছে এই স্থানটি খুবই প্রিয়। সুযোগ পেলেই বিশুদ্ধ বাতাস নিতে ছুটে আসেন তারা। এর মধ্যে তরুণ-তরুণীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। রাজশাহীতে কেউ আসলে তাদের ঘুরতে যাওয়ার প্রথম এবং প্রধান স্থানটি পদ্মা নদীর পাড়!’

তিনি জানান, পদ্মাপাড়ে লালন শাহ মুক্তমঞ্চ রয়েছে। প্রত্যেক উৎসবে এই মঞ্চে নাচ, গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বেড়াতে আসা এক গৃহিণী বললেন, ছেলেকে নিয়ে নদীর পাড়ে ঘুরতে এসেছি। নগর জীবনে কাঁশবন, রাখালের গরু চড়ানোর দৃশ্য দেখার সুযোগ নেই। তাই এখানে এসেছি। তাই প্রাকৃতিক পরিবেশের দৃশ্য দেখতে এসেছি।

‘ছুটির দিনে মানুষ বেশি হওয়ায় বিক্রিও বেশি হয়। রমজান বলে দিনে তেমন একটা বিক্রি নেই। তবে সন্ধ্যার পর বিক্রি ভালোই হয়,’ বলছিলেন চটপটি বিক্রেতা মো. হামিদ।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজ২৪