ঈদের ছুটি শেষে জনস্রোত এখন কর্মস্থলমুখী

রাজশাহী

এবার ঈদে সাপ্তাহিক ছুটির দুইদিনের সঙ্গে ঈদের ছুটি যুক্ত ছিল মাত্র একদিন। অর্থাৎ শুক্রবার (১৫ জুন) ও শনিবার (১৬ জুন) সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে ঈদের ছুটি পড়ায় রোববার (১৭ জুন) কেবল যুক্ত হয়েছিল ঈদুল ফিতরের তিনদিনের ছুটির সঙ্গে।

এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাড়তি দুই দিনের ছুটি ভোগ করতে পারেননি। তাই ঈদের তৃতীয় দিনে অনেক সরকারি কর্মজীবী কর্মস্থলে ফিরেছেন। আর ঈদের আগের দিন বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) যারা বাড়ি গিয়েছিলেন তারাও ফিরতে শুরু করেছেন। সব মিলিয়ে ছুটির আমেজের মধ্যেই সোমবার (১৮ জুন) থেকে শুরু হয়েছে কর্মস্থলে ফেরা।

তাই ঈদের আমেজের মধ্যে জনস্রোত এখন কর্মস্থমুখী। বাস ও ট্রেনে মানুষ রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে রাজশাহী ছেড়ে যাচ্ছেন। তবে বাস বা ট্রেনের কোথাও টিকিট নেই। যারা ফিরতি টিকিট কেটে রেখেছিলেন তারাই কেবল স্বস্তিতে ফিরতে পারছেন। অন্যরা বাস-ট্রেনের ছাদে বা ভেতরে দাঁড়িয়ে রওনা দিচ্ছেন নিজ নিজ কর্মস্থলের উদ্দেশে।

বর্তমানে ঢাকামুখী হানিফ এন্টারপ্রাইজ, ন্যাশনাল ট্রাভেলস, দেশ ট্রাভেলস, গ্রামীণ ট্রাভেলস, শ্যামলী, তুহিন পরিবহনসহ বিভিন্ন নামিদামী কোম্পানির বাস কাউন্টারের একই অবস্থা। ভেতরে দাঁড়িয়ে, ইঞ্জিন কাভারে বসে বা ছাদে চড়ে ঢাকা যাওয়া যাচ্ছে কেয়া, মর্ডান, ইসলাম ট্রাভেলস, হাসনা হেনা, রাব্বানিসহ দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পরিবহনে।

রাজশাহীর শিরোইলে থাকা ঢাকা বাসস্ট্যান্ডের হানিফ কাউন্টার থেকে বেরিয়ে সপুরা এলাকার আফতাব হোসেন জানান, ফিরতি টিকিট কাটতে গিয়ে তিনি অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে টিকিট পেয়েছেন। তবে দাম বেশি দিতে হয়েছে। রাজশাহী-ঢাকা রুটের নির্ধারিত সাড়ে ৪শ’ টাকার টিকিটের জন্য তাকে ৭শ’ টাকা গুনতে হয়েছে। দুইটি টিকিট নিয়েছে ১৪শ’ টাকা।

তবে কেবল আফতাব হোসেনই নন ঈদ শেষে ঢাকার কর্মস্থলমুখী মানুষগুলোর এখন একই হাল। ফিরতি টিকিট না পেয়ে নানান দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে রাজধানী ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ। যারা বেশি টাকায় টিকিট কিনতে পারছেন না তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ ছাদে উঠছেন।

তবে হানিফ এন্টারপ্রাইজ কাউন্টারের ম্যানেজার মোহাম্মদ খোকন বাড়তি টাকার অভিযোগ অস্বীকার করে  বলেন, ঈদের ছুটি শেষে পরের সাত দিনের টিকিট ঈদের আগেই বিক্রি হয়ে যায়। অনেকে স্বজনদের মাধ্যমে ঈদের ফিরতি টিকিট কেটে নিয়েছিলেন। যারা আগে এসেছেন, তারাও রাজশাহী নেমে ফিরতি টিকিট নিয়েছেন। ফলে এখন টিকিট শূন্য। তবে কারও যাত্রা বাতিল হলে সেই টিকিট মিলতে পারে। তাই ফিরতি টিকিট নেওয়া যাত্রীরাই স্বস্তিতে ফিরছেন বলে জানান খোকন।

ঢাকার সাভারে একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছী এলাকার সাজেদুল ইসলাম। ঈদের ছুটি পেয়ে পরিবার নিয়ে গ্রামে এসেছিলেন। কিন্তু ফেরার বেলায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কোনো টিকিট না পেয়ে অনেকটা বিমর্ষ হয়ে পড়েন তিনি।

সাজেদুল জানান, কাউন্টারে গিয়ে দেখেন কোথাও টিকিট নেই। যেখানেই যান, সেখান থেকেই বলা হয় টিকিট নেই। পরে তিনি ৩০০ টাকা দিয়ে বাসের ছাদে উঠেছেন।

শিরোইল বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা যায়, বাস কাউন্টারের সামনে অর্থাৎ রাজশাহী রেলস্টেশনের দক্ষিণ পাশে রাস্তার ওপর ১৫ থেকে ২০টি লোকাল বাসের দীর্ঘ লাইন। একের পর একটি ছেড়ে যাচ্ছে ঢাকার উদ্দেশে। তবে জীবন মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েই এসব বাসের ছাদের উপরে উঠছেন মানুষ। বাড়তি লাভের আশায় বাসের ভেতরে ও ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে ছাড়ছে এসব লোকাল বাস। এক্ষেত্রে যাত্রীরা পড়ছেন চরম ঝুঁকির মুখে।

এ বিষয়ে হাসনা হেনা পরিবহনের হেলপার হাফিজুর রহমান বলেন, ছাদের ভাড়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এতে কিছুটা লাভ হচ্ছে। কারণ ঈদের আগে এপাশ থেকে যাত্রী হয়না। অনেক সময় ফাঁকা বাস নিয়েই যাত্রী আনার জন্য ঢাকা যেতে হয়। ভিড় হয় ঈদের পর। এজন্য বাসের ভেতরে ও ছাদে বাড়তি লোক তুলে সেই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া হয় ঈদের পরে।

এদিকে, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে আছে বরাবরই। বিভিন্ন কায়দায় টিকিট সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা সেগুলো কালোবাজারে বিক্রি করেন। কাউন্টারে গিয়ে ঈদের ফিরতি টিকিট না পাওয়া গেলেও চড়া দামে কালোবাজারে টিকিট বিক্রি হচ্ছে ঠিকই।

তবে টিকিট নিয়ে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সুপারিনডেন্ট গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, ঈদের ফিরতি টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। এখন কেউ যদি যাত্রা বাতিল করে নিজের টিকিট অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয় সেটা দিতেই পারে। কিন্তু টিকিট বিক্রিতে আগেও কোনো অনিয়ম হয়নি এখনও হচ্ছেনা।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজ২৪