রাজশাহী হবে দর্শনীয় নগরী

রাজশাহী

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরে রাজশাহীকে দর্শনীয় শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। যাতে করে রাজশাহীতে মানুষ শুধু কাজের জন্য নয়, শহর দেখতে আসে। শপথগ্রহন করে রাজশাহী ফিরে নগরবাসীর উদ্দেশ্যে এ কথা বলেন খায়রুজ্জামান লিটন।

তিনি বলেন, এবার রাজশাহীবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রী খুশি হয়েছেন। রাজশাহীর উন্নয়নে যা যা দরকার প্রধানমন্ত্রী তা দিতে চেয়েছেন। নির্বাচনের সময় নগরবাসীকে দেয়া প্রতিটি ওয়াদা এক এক করে বাস্তবায়ন করা হবে। ঢাকার পরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও অবকাঠামো দিক থেকে রাজশাহীকে এক নম্বর সিটি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ জন্য নগরবাসীর সহযোগিতাও চান নগর পিতা খায়রুজ্জামান লিটন।

গত ৫ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শপথ নেন মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। সোববার রাতে ট্রেন যোগে তিনি রাজশাহী পৌঁছান। রাজশাহী স্টেশনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানায়। তাদের ফুলে ফুলে সিক্ত হন নগর পিতা। এ সময় তিনি নগরবাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যের সময় নগরবাসীর ভালবাসা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মেয়র লিটন।
মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনকে স্বাগত জানাতে সন্ধ্যা থেকেই রাজশাহী স্টেশনে নামে মানুষের ঢল। রাসিকের কাউন্সিলররাসহ নগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন। স্টেশন এলাকা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।

লিটন বলেন, আজ আপনাদের বুক থেকে উৎসারিত প্রেম-ভালোবাসা এটা ব্যক্তি লিটনের জন্য নয়। এ ভালোবাসা রাজশাহীর প্রতি, এ ভালোবাসা দেশের জন্য। এ ভালোবাসা রাজশাহীর উন্নয়নের জন্য। রাজশাহীকে আমি যে অবস্থায় রেখে এসেছিলাম; আগামীতে রাস্তাঘাট, ড্রেন নির্মাণসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে আগের চেয়েও সুন্দর রাজশাহী হিসেবে গড়ে তুলব।
খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আপনারা নির্বাচনের ছয়মাস আগ থেকে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট ভিক্ষা করেছেন। তার ফলস্বরুপ আজকে আমরা এখানে উপস্থিত হতে পেরেছি। আপনাদের জানাতে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে রাজশাহীর উন্নয়নে সব রকম সহায়তা আমরা পাব।

জনতাকে আশ্বস্ত করে মেয়র লিটন বলেন, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, শপথের পর প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ওয়ার্ক শুরু করেছি। আজ আমি আপনাদের কাছে আমার সকল আবেগ ও ভালোবাসা অর্পণ করছি। আমরা যে এখানে সমবেত হয়েছি তা আপনাদের পরিশ্রমের ফল। আপনারা রাজশাহীর উন্নয়নের যে প্রত্যাশা করেন, আগামীতে আপনাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করা হবে।
স্বাধীনতার অগ্রনায়কদের স্মরণ করে তিনি বলেন, এই মাহেন্দ্রক্ষনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্বাধীনতাকামী মানুষ, যারা মুক্তি সংগ্রামে প্রাণ দিয়েছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত করি। রাজশাহীর প্রাণপুরুষ, স্বাধীনতার অন্যতম সংগঠক, বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহচর, জাতীয় চারনেতার একজন, যিনি রাজশাহীকে বাংলাদেশ ও বিশ্বের কাছে পরিচিতি এনে দিয়েছেন সেই শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানকে স্মরণ করি।

সেখানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, মাহফুজুল আলম লোটন, শাহাদত হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, সংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলাম বেন্টু, উপ-প্রচার সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ লেমন, নগর জাসদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ শিবলী, নগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলী, সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন বাচ্চু, নগর সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মোমিন, জেডু সরকার প্রমূখ।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুলাই রাসিক নির্বাচনে এক লাখ ৬৫ হাজার ৯৪ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। গত ৫ আগস্ট তিনি শপথ গ্রহণ করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ ডেইলি সানশাইন