নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পড়েছে রাজশাহী

রাজশাহী

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে রাজশাহী মহানগরীকে। এ লক্ষ্যে মহানগর পুলিশের ১২টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বর্তমানে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন। সকাল থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সড়কে টহল দিচ্ছেন। পাশাপাশি তাদের সহায়তায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও সাদা পোশাকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।

এছাড়া সংসদ নির্বাচন সুন্দর, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজন ও নিরাপত্তার জন্য যানবাহন ও বৈধ অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। জেলা রিটার্নিং অফিসার এস. এম. আব্দুল কাদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নিষেধাজ্ঞার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘২৮ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় সব ধরনের বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ চলাচল, অস্ত্র বহন বা প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তাকর্মীরা এ নিষেধাজ্ঞার অর্ন্তভূক্ত হিসেবে বিবেচিত হবে না’।

এদিকে, রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার (সদর) ইফতে খায়ের আলম জানিয়েছেন, নির্বাচনে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বর্তমানে মহানগরীর কাঁটাখালি, নওদাপাড়া ও কাশিয়াডাঙ্গা এ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ মুখে চেক পোস্ট বসানো হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি ৪০০ র‌্যাব সদস্য মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে মহানগরের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে র‌্যাবের টহল চলছে।

মহানগর পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (সদর) ইফতে খায়ের আলম জানান, ঢাকা হেড কোয়াটারের নির্দেশনা অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় মহানগরের ১২ থানা এলাকার সব ফাঁড়িতে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাড়তি সতর্কতা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মহানগরের প্রবেশ মুখ ছাড়াও তালাইমারী, কোর্ট চত্বর, প্রাণ কেন্দ্র সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, মণিচত্বর, সোনাদীঘির মোড়, বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন, লক্ষ্মীপুর, তালাইমারী শহীদ মিনার রোড, সরকারি অফিস-আদালত এবং বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর এলাকাসহ আরও কয়েকটি এলাকায় কঠোর নিড়াপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম আরও জানান, মহানগরের এসব পয়েন্টে সন্দেহজনক ব্যক্তি দেখলেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদসহ দেহ তল্লাশিরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে প্রতিটি আবাসিক হোটেলে আগত ব্যক্তিদের গতিবিধি নজরদারি এবং আবাসিক এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের জন্য এরইমধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে।

৩০ ডিসেম্বর (রোববার) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজ২৪