সিজারের দিকে ঝুকছেন দেশের ৩৫% নারী

স্বাস্থ্য বার্তা

বাংলাদেশে সিজারের করা রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে সিজারের সংখ্যা যদি সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত হয় তাহলে সেটাকে স্বাভাবিক বলে মনে করা হয়। কিন্তু উদ্বেগের কথা এই যে, বাংলাদেশে এই সিজারের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩৫ শতাংশ।

কয়েকজন চিকিসৎকেরা জানান বাংলাদেশে গর্ভবতী মায়েরা নরমাল ডেলিভারি করাতে ইচ্ছুক না। তারা ঝুঁকি নিতে চান না। সহজেই তারা সিজারের দিকে ঝুঁকছেন। এমনকি অনেকক্ষেত্রে এই সিজার বিষয়টা মেয়েদের কাছে এখন ফ্যাশানে পরিণত হয়েছে।

প্রাকৃতির নিয়মে প্রসব কখন হবে, তা আগেভাবে সঠিকভাবে জানা যায় না। অধিকাংশ নারী এই প্রক্রিয়াতেই গর্ভধারণের ৩৮-৪১ সপ্তাহের মধ্যে সন্তান প্রসব করেন। এভাবে জন্ম নেয়া শিশুর রোগবালাই সংক্রমণের মাত্রা কম থাকে। তবে সন্তান প্রসবের সময় প্রচণ্ড ব্যথা ও কষ্ট অনুভব করে থাকে। আর এ থেকে পরিত্রাণ পেতেই মূলত সিজারিয়ানে আগ্রহী নারীরা।

অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সিজারিয়ান অপারেশনের সংখ্যা গত ৩০ বছরে এই সিজারের ব্যাপক হারে বেড়েছে। এর পেছনে অনেক কারণ আছে। এটির প্রধান এবং মূল কারণ সচেতনার অভাব। আমাদের দেশের অধিকাংশ মেয়েরা এখনও ১৮ বছরের আগে গর্ভবতী হয়ে যায়। এর জন্য তাঁর যোনি পথের বৃদ্ধি ঠিকমতো হয় না। অল্প বয়সে গর্ভবতী হওয়ার কারণে ভয় বা ভীতিও কাজ করে।

তাই হাসপাতালে গিয়ে তারা নিজেরাই বলেন সিজার করানোর কথা। তাঁরা নরমাল ডেলিভারির করাতে একদমই আগ্রহ দেখান না। মেয়েদের এই আগ্রহের জন্য সিজারের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার যারা একটু বেশি বয়স করে বিয়ে করছেন তাদের সমস্যা দাড়ায় অন্যকিছু। তাদের শারিরীক জটিলতার কারণে দেখা যায় সিজার করতে হয়।

আসলে সচেতনতা বৃদ্ধি, অল্প বয়সে বা বেশি বয়সে বিয়ে সিজারের প্রধান কারণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে একবার সিজার করলে প্রতিবারই সিজার করাতে হয়। মায়ের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে বা সন্তারের সুবিধার জন্য যখন সিজারের দরকার হয়, তখন সিজার করতেই হবে। অর্থাৎ সেটাই ভালো। কিন্তু যখন ইচ্ছে করে সিজার করানো হয় বা ডাক্তাররা করতে বলছেন বলে করানো হয়, তখন সেটাকে খারাপ বলতে হবে।

খবরঃ ডেইলি সানশাইন

1 thought on “সিজারের দিকে ঝুকছেন দেশের ৩৫% নারী

Comments are closed.