মুহুর্তের কেনাকাটায় জমজমাট রাজশাহী

রাজশাহী

রাজশাহীর বাজারে জমজমাট এখন ঈদের কেনাকাট। বুধবার রাজশাহীর বিভিন্ন বুটিক হাউজগুলো ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতাদের ভিড়। ঈদে বিদেশী পোষাকের বিক্রি তুঙ্গে থাকলেও বাড়ছে বুটিক হাউজগুলোতেও ভিড় করছেন ফ্যাশন সচেতন ও দেশীয় পোষাক প্রেমীরা। বাংলাদেশে বুটিকের পণ্য তৈরিতে ব্লক, বাটিক, এমব্রয়ডারি, কারচুপি এবং হ্যান্ডিক্রাফট ব্যবহার করা হয়। দেশীয় ঐতিহ্যের সংমিশ্রনে ডিজাইনে ভিন্নতা থাকায় বুটিক আকর্ষন করছে রুচিশীল ক্রেতাদের।

নগরীর রং রুপ বুটিক হাউজের সত্ত্বাধিকারী শাহিন জানান, আগে রাজশাহীতে বুটিক পোষাক খুব একটা চলত না। তবে এখন রাজশাহীবাসীরা বুটিকের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। আগ্রহ বাড়লেও নির্ধারিত দামের চেয়েও কম দামে পোষাক পেতে চাচ্ছেন ক্রেতারা এমনটাই জানান তিনি।

বুটিক হাউজ সংশ্লিষ্টরা জানান, অন্য শহরে বুটিকের পোষাকের ক্ষেত্রে ক্রেতারা খুব একটা দরদাম করেনা। কিন্তু রাজশাহীতে এর প্রচলন কম। ক্রেতারা দাম আরও কমে চাচ্ছেন। এমনিতেই তারা খুব স্বল্পমূল্যেই পোষাক বিক্রি করছেন বলে জানান।

বিভিন্ন বুটিক হাউজ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বুটিকের খুব ভাল বাজার রাজশাহীতে ছিলনা। ধীরে ধীরে বুটিক পোষাকের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে উত্তরবঙ্গের জনপদ। বিভিন্ন উদ্যোক্তার পাশাপাশি দেশের অন্যতম বৃহৎ বুটিক হাউজ “আড়ং” সহ বিভিন্ন বুটিক হাউজ রাজশাহীতে আসার পর ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে। আর এই আগ্রহের সাথে যোগ হয়েছে ঈদ কেনাকাটা। এছাড়াও রাজশাহীর বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র পরিসরে মেয়েদের গড়ে তোলা বুটিক পোষাকের কদর বেড়েছে।

বুটিক হাউসগুলোর তৈরি পণ্য সামগ্রীর মধ্যে সালোয়ার কামিজ, শাড়ি, ফতুয়া, শার্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, ম্যাক্সি, স্কার্ট, স্কার্ফ, বিবাহের পোশাক, লেহেঙ্গা, বোরখা, পহেলা বৈশাখ বা পহেলা ফাল্গুনের পোশাক, বেড শিট, বেড কভার, বালিশ ও বালিশের কভার ইত্যাদি রাজশাহীতে পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য বিদেশী পোষাকের তুলনায় কম দামেই পাওয়া যাচ্ছে এই পোষাকগুলো বিক্রেতারা জানিয়েছেন দেড়শ টাকা থেকে শুরু করে চার হাজার টাকার মধ্যেই রয়েছে এ পন্যগুলোর দাম।

এছাড়াও ডাইনিং সেট, চামড়ার তৈরি গিফট আইটেম, অলঙ্কার আইটেম, বাচ্চাদের জন্য কিডস আইটেম, ভ্যানিটি ব্যাগ, ঘর সাজানোর আইটেম, ওয়ালম্যাট ইত্যাদি প্রায় ত্রিশ ধরনের পণ্য অল্প পরিসরে পাওয়া যাচ্ছে রাজশাহীতে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন প্রচার ও প্রচলনের সাথে সাথে রাজশাহীতে এর চাহিদা ও যোগান বাড়বে।

ক্রেতা ডা: স্বর্ণা বলেন, বুটিক এখন মূলত ফ্যাশনেবল একটা পোষাক। কমদামে দেশীয় ঘরানার রুচিশীল পোষাক বলা যায়। এ কারনে বুটিকের প্রতি চাহিদা বাড়ছে।
মূলত নারী শ্রমিক নির্ভর এই শিল্পের মধ্যে রয়েছে দেশের কৃষ্টি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিকাশের অপার সম্ভাবনা। স্বল্পমূল্যে চাহিদা পূরণের নিশ্চয়তায় এবছর ঈদ কেনাকাটায় রাজশাহীবাসীর কাছে সমাদৃত হচ্ছে বুটিক পোষাক।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ ডেইলি সানশাইন