এবার পূর্ণমন্ত্রী পাওয়ার প্রত্যাশা রাজশাহীর

রাজশাহী

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামানই ছিলেন রাজশাহী সদর থেকে বঙ্গবন্ধু সরকারের পূর্ণমন্ত্রী।

এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদে আর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পায়নি বিভাগীয় শহর রাজশাহী। ফলে রাজশাহীর অভূত উন্নয়নের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছে।

টানা ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আবারও জয়ের মুখ দেখে আওয়ামী লীগ। জয়লাভের পর সরকার গঠন করে দলটি। ওই সময় রাজশাহী বিভাগের পার্শ্ববর্তী জেলা শহর নওগাঁ থেকে বাণিজ্যমন্ত্রী করা হয় প্রয়াত নেতা আবদুল জলিলকে। সেই সঙ্গে রাজশাহী থেকে আওয়ামী লীগ নেত্রী অধ্যাপিকা জিনাতুন নেসা তালুকদার ও নাটোর থেকে আবদুল কুদ্দুসকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়। যমুনাপাড়ের সিরাজগঞ্জ থেকে দলটির জেষ্ঠ্য নেতা মোহাম্মদ নাসিমকে দেওয়া হয় পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব।

তিনি স্বরাষ্ট্র ও পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ফলে স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে দলটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ট হলেও পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পায়নি রাজশাহীর মানুষ। তবে টানা তৃতীয়বারের মতো এবার সরকার গঠন করছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। এরই মধ্যে শপথ নিয়েছেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। রোববার (৬ জানুয়ারি) এ মন্ত্রীসভার শপথগ্রহণের কথা রয়েছে।

নবম সংসদের শেষ দিকে শিল্প প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী। দশম সংসদে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হন রাজশাহী-৬ এর সংসদ সদস্য শাহরিয়ার আলম। একাদশ সংসদের নতুন মন্ত্রিসভায় রাজশাহীর কে থাকছেন তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে হরেক রকম গুঞ্জন ডালপালা মেলছে।

পদ্মাপাড়ের মানুষগুলোর প্রত্যাশা এবার অন্তত রাজশাহীর কোনো সংসদ সদস্যকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে ঠাঁই দেওয়া হবে হ্যাট্রিক সরকারের চমকের মন্ত্রিসভায়।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী অঞ্চলে ৩৯ আসনের মধ্যে ৩২টি আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের নিরঙ্কুশ বিজয় হয়েছে। বিশিষ্টজনেরা বলছেন, রাজশাহী এখন নৌকার দুর্গ। তাই পিছিয়ে পড়া রাজশাহীকে উন্নয়নের অভিযাত্রায় এগিয়ে নিতে এখান থেকে কাউকে এবার পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী করা প্রয়োজন।

টানা আধিপত্যের কারণে এক সময় রাজশাহীকে বিএনপির ঘাঁটি বলা হতো। বিশেষ করে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত সবক’টি আসনই ছিল বিএনপির দখলে। কিন্তু রাজনৈতিক দূরদর্শিতায় সেই ব্যুহ ভেদ করেছে মহাজোটের সংসদ সদস্যরা। সংসদীয় আসনগুলো গত দশ বছর ধরে একটানা নিজেদের কব্জায় রেখেছেন তারা।

২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর ছয়টি আসনেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হন। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনেও দলটি সবগুলো আসন ধরে রাখে। একাদশ সংসদেও সবগুলো আসনে নৌকার জয়জয়কার। আর সেজন্যই এখানে নতুন ইতিহাস গড়তে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী দেওয়া হবে বলেও আশা করছেন সুধিজনরা।

এ ক্ষেত্রে উঠে এসেছে রাজশাহীর তিন সংসদ সদস্যের নাম। এদের একজন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য শাহরিয়ার আলম, রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা ও রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তারাও হ্যাট্রিক করেছেন। এর মধ্যে ক্লিন ইমেজ ধরে রাখায় একাদশ সংসদের মন্ত্রিসভায় শাহরিয়ার আলম ও ফজলে হোসেন বাদশার কথাই ভাবছেন সবাই।

দশম সংসদে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন মন্ত্রী ছিলেন। একাদশ সংসদে তিনি মন্ত্রিসভায় না থাকলে পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশাকে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দেওয়া হতে পারে বলছে নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র। এছাড়া চমক হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকেরও মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবার।

সামাজিক সংগঠন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, ‘দশম সংসদ নির্বাচনে আমরা আশা করেছিলাম রাজশাহী সদর থেকে কেউ মন্ত্রিত্ব পাবেন। কিন্তু গত মেয়াদে আমরা রাজশাহীবাসী হতাশ হয়েছি’।

‘এখান থেকে কোনো পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী না দেওয়ায় উন্নয়নের দিক থেকে রাজশাহী অনেক পিছিয়ে পড়েছে। তাই এবার আমারা চাই রাজশাহী থেকে একজন প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সংসদ সদস্যকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হোক’।

এ ক্ষেত্রে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন সিটি মেয়র হিসেবে রয়েছেন। ফজলে হোসেন বাদশা পূর্ণ মন্ত্রী হলে তারা দুজনে মিলে রাজশাহীর উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে মনে করেন এ সামাজিক সংগঠনের নেতা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক শাহ আজম শান্তনু বলেন, ‘রাজশাহী উত্তরবঙ্গের কেন্দ্রস্থল। শিক্ষা-সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এটি সমৃদ্ধ জনপদ। রাজশাহীতে কৃষি সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে শিল্প ও পর্যটনেও বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সম্ভাবনাময় এ অঞ্চলের উন্নয়ন করতে হলে সরকারে এখানকার একজন পূর্ণ মন্ত্রী দরকার। এ দাবির পেছনে যৌক্তিকতা হলো, আমাদের এখানে অত্যন্ত যোগ্য নেতৃত্ব রয়েছে। একজন পূর্ণ মন্ত্রী এ অঞ্চলের উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারবেন’।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজ২৪