ঈদের ছুটিতে বেড়ান পাহাড়-সমুদ্র-ঝরনা

জাতীয়

ছুটির জালে বন্দি ঈদুল ফিতর। যারা যান্ত্রিক জীবনের গ্যাঁড়াকলে পড়ে দূরে কোথাও বেড়ানোর সুযোগ পান না, তাদের জন্য অনাবিল আনন্দের হাতছানি এ ছুটি। তাইতো ঈদ উৎসবকে ঘিরে নতুন রূপে সেজেছে দেশের বিভিন্ন পর্যটন নগরীও। এ সুযোগে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন সেখান থেকে।

সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেট
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেট। এখানে বেড়ানোর জায়গার যেনো শেষ নেই। উঁচু-নিচু পাহাড়ে ঘেরা সিলেটের ঢেউ খেলানো চা-বাগান নিমিষেই পর্যটকের মন কেড়ে নেয়। দেখার মতো অনেক স্থাপনাও রয়েছে সিলেট নগরে। তার মধ্যে অন্যতম- ক্বীন ব্রিজ, আলী আমজাদের ঘড়ি, চাঁদনি ঘাটের সিঁড়ি, হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহ পরানসহ (রহ.) ওলি-আউলিয়াদের মাজার, খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান, সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলার মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত টাঙ্গুয়ার হাওর, আবঙ্গির পাহাড় (ইবনে বতুতার টিলা), শাহী ঈদগাহ, গৌর গোবিন্দের টিলা প্রভৃতি। এছাড়া জাফলং, লালাখাল, শ্রীপুর, জৈন্তাপুর, রাতারগুল, জকিগঞ্জে তিন নদী সুরমা-কুশিয়ারা-বরাক মোহনা, জৈন্তিয়া রাজবাড়ী, বিছনাকান্দি ছাড়াও দেখার মতো অনেক কিছুই রয়েছে এখানে।

সবুজ সুনিবিড় সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকেই ঈদের ছুটিতে যাচ্ছেন সিলেটের অনিন্দ্য সুন্দর পর্যটন স্পটগুলোতে। জৈন্তিয়া পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য, জাফলংয়ের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য, রাতারগুলের জলারবন, পানতুমাইয়ের ঝরনাধারা, বিছনাকান্দির স্বচ্ছ জলের হাতছানি, লোভাছড়ার মন মাতানো সৌন্দর্য আর সারি সারি পাথরের স্তূপ পর্যটকদের টেনে নেয় বার বার।

সমুদ্র পাহাড়ের কক্সবাজার
সমুদ্র আর পাহাড়ের মিতালী যাদের বেশি কাছে টানে, ঈদের ছুটিতে তাদের গন্তব্য কক্সবাজার। সমুদ্র সৈকতে ঢেউয়ের নাচন দেখার পাশাপাশি পর্যটকের ভ্রমণের জন্য রয়েছে বিনোদনের আকর্ষণীয় মাধ্যম। কক্সবাজার গিয়ে আপনি দেখতে পাবেন বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, শহরের মাহাসিংদোগ্রী বৌদ্ধ মন্দির, বার্মিজ মার্কেট, অজ্ঞমেধা ক্যং, রাডার স্টেশন, হিলটপ সার্কিট হাউজ ও হিমছড়ি ঝর্ণা।

এছাড়াও রয়েছে রামুর নবনির্মিত ও পুরনো ঐতিহ্যের ধারক বৌদ্ধ বিহার, রাবার বাগান, চকরিয়াস্থ ডুলাহাজরা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, টেকনাফের সমুদ্র সৈকত, মাথিনের কূপ, সেন্টমার্টিন প্রবালদ্বীপ, ছেঁড়াদ্বীপ, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির ও ক্যাং, সোনাদিয়া দ্বীপ, কুতুবদিয়া বাতিঘর। এসবের সঙ্গে যোগ হয়েছে রামুর উত্তর মিঠাছড়ির ১০০ ফুট সিংহ শয্যা বুদ্ধমূর্তি এবং বোটানিক্যাল গার্ডেন। এগুলোর সঙ্গে সূর্য উদয় এবং অস্তের দৃশ্যও আপনাকে দেবে অপার মুগ্ধতা।

পর্যটন নগরী রাঙামাটি
মেঘের স্পর্শ যারা নিতে চান, খেলতে চান মেঘের সঙ্গে লুকোচুরি, তারা যেতে পারেন রাঙামাটির সাজেক ভ্যালি। বর্ষা মৌসুমে পানিতে টইটুম্বুর রাঙ্গামাটির মনোরম কাপ্তাই লেক। উজ্জীবিত দৃষ্টিকাড়া সুবলং ঝরনা। রাঙ্গামাটির প্রবেশমুখ কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়ায় চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক ঘেঁষেই ঠান্ডাছড়ি চা বাগান এবং উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্রের অবস্থান।

এরপর ঘাগড়া সেনানিবাসে রয়েছে বিনোদন পার্ক। পাশাপাশি উপজেলা কাপ্তাইয়ের কাপ্তাই বাঁধ, জাতীয় উদ্যান, নেভী ক্যাম্প, জুম প্যানোরমা স্পট, শিলছড়ি বনানী পর্যটন স্পট, চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার, চা বাগানসহ বিভিন্ন বিনোদন পার্ক, দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনা।

ছোট-বড় বেশ কয়েকটি ঝরনা রয়েছে কাসালংয়ে। এসব ঝরনার শব্দ আপনার কানে বৃষ্টির শব্দের মতো অনুভূত হবে। মূল শহরে সংযুক্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশের প্রধান বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রাজবন বিহার। পাশে কাপ্তাই লেক পরিবেষ্টিত বিচ্ছিন্ন রাজদ্বীপে অবস্থিত চাকমা রাজার বাড়ি। অবারিত সবুজের প্রকৃতির ভাঁজে ভাঁজে রাঙ্গামাটি জেলাজুড়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থাপনা ও উপভোগ্য স্থান। যা হতে পারে আপনার ঈদের ছুটির সঙ্গী।

সবুজ পাহাড়ের খাগড়াছড়ি
ছুটিতে মন চায় একটু বেড়িয়ে আসতে, পরিবার নিয়ে অথবা বন্ধুরা মিলে দূরে কোথাও সবুজ সুনিবিড় শান্তির মাঝে। এজন্য অবশ্যই ঘুরে আসতে পারেন সবুজ পাহাড়ের দেশ খাগড়াছড়ি। খাগড়াছড়ির আলুটিলা চূড়া থেকে পুরো শহরের দৃশ্য দেখা একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা। পাহাড়ের চূড়া থেকে সিঁড়ি বেয়ে আপনাকে নেমে যেতে হবে গুহায়। ভেতরে একদম অন্ধকার।

অপরদিকে, মাটিরাঙ্গা উপজেলায় অবস্থিত রিসাং ঝরনাটি নেমেছে পাথুরে পাহাড়ের কোলে। এটাই যেনো তার সুরক্ষা ব্যবস্থা। ঝরনার পানির কারণে পাথর থাকে সবসময় পিচ্ছিল। জেলা সদর থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দক্ষিণে খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি সড়কের কোল ঘেঁষে অবস্থিত ছোট্ট নদী নুনছড়ি। সোজা চলে যেতে পারেন একেবারে নদীর পাদদেশে।

দিঘিনালায় অবস্থিত আরেকটি চমৎকার ঝরনা হাজাছড়া। বেশ উঁচু-খাড়া এই ঝরনার নিচে পানিতে শান্তিমতো গোসল করতে পারবেন। আরও দেখবেন- তৈদুছড়া, মহালছড়ি হ্রদ, শতায়ুবর্ষী বটগাছ, পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, ভগবান টিলা, দুই টিলা ও তিন টিলা, মানিকছড়ি মং রাজবাড়ি, বন ভান্তের প্রথম সাধনাস্থল, রামগড় লেক ও চা বাগান।

নীলাচল-নীলগিরির বান্দরবান
পবিত্র ঈদুল ফিতরের বন্ধে বান্দরবান হতে পারে আপনার আনন্দের সঙ্গী। শহরে পাহাড়ের চূড়ায় বৌদ্ধ মন্দির (স্বর্ণ মন্দির), মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র, শৈলপ্রপাত, রিঝুক ঝরনা, নীলাচল ও নীলগিরি পাহাড় ঘুরে দেখতে পারেন। পাহাড় চূড়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় তিন হাজার ফুট উঁচুতে প্রাকৃতিক লেক-বগা লেক মোহিত করবে আপনাকে। প্রাকৃতিক এ লেকের স্বচ্ছ পানি, দৃষ্টি নন্দন প্রাকৃতিক পরিবেশ আপনার পথের ক্লান্তিকে দূর করবে।

মেঘের স্পর্শ পেতে হলে আপনাকে যেতে হবে নীলাচল অথবা নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যটন কেন্দ্র নীলগিরি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় তিন হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতায় পর্যটকের হাতের উপর ঘুরে বেড়ায় মেঘদল। আর প্রকৃতির নিবিড়তর আনন্দ দিবে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের চূড়ায় নীলাচল। রাত্রিযাপনের জন্য এখানে পেয়ে যাবেন মনোমুগ্ধতর কয়েকটি কটেজও।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজ২৪